Bengal Liberty : দিল্লির রামলীলা ময়দানের উদ্দেশ্যে আয়োজিত বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে চলেছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সেখানে দেখা গেল এক অভিনব দৃশ্য। হুডগোলা গাড়িতে চালকের পাশের আসনে রাহুল গান্ধী। তাঁর পরের সারিতে ওমর আবদুল্লা ও ডি রাজা। তৃতীয় সারিতে অখিলেশ যাদবের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাই চলেছেন রামলীলা ময়দানের কর্মসূচিতে যোগ দিতে। ১ নভেম্বর ২০২৬-এ আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নেতাদের আসন বিন্যাস রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আসন বিন্যাস দেখে স্পষ্ট বাংলার ফলাফলের পর বিরোধী জোটে যেন কিছুটা ‘ব্যাকফুটে’ মমতা। প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে বিরোধী জোটে ভেসে থাকতে যেন কংগ্রেসই বড় ভরসা তাঁর।
ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু। পথে নেমে লড়াই করে বরাবর নিজের জায়গা দখলে বিশ্বাসী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতদিন যেকোনও আন্দোলনে একেবারে প্রথম সারিতেই দেখা যেত তাঁকে। সবচেয়ে বড় কথা, একসময় ‘ইন্ডি’ জোট যেন চলত তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। তারপরই যেন ছবিটা অনেকটা বদলে গিয়েছে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের একাংশের। ভেঙে খানখান একদা শাসক শিবির।
আর সেই ফলেরই প্রভাব যেন পড়ল এদিন রামলীলা ময়দানের পথে হুডখোলা গাড়ির আসন বিন্যাসে। এবার একেবারে প্রথম সারিতে নন মমতা। হুডখোলা গাড়ির সামনে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের বিরোধিতায় ‘ইন্ডি’ জোটের কর্মসূচিতে তিনিই যেন মধ্যমণি। আর তাঁকে সঙ্গত দেওয়ার ভূমিকায় কিছুটা পিছনের সারিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ওই হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ওমর আবদুল্লা, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব, সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে, তেজস্বী যাদব। মমতা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা গিয়েছে। তবে তিনিও রয়েছেন একেবারে শেষ সারিতে।
আরও খবর
বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর প্রয়োজনে বাম-কংগ্রেসের হাত ধরার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বাংলায় তেমন কোনও সাড়া মেলেনি। তবে সাম্প্রতিককালে একাধিকবার দিল্লিতে গিয়ে রাহুল-সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলার ‘দিদি’। নিজের হারানো গুরুত্ব পেতে কংগ্রেসের ‘হাত’ ধরা ছাড়া আর যে কোনও গতি নেই মমতার। অন্তত এদিনের ছবিতেই তা খানিক স্পষ্ট। এমনটাই দাবি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।


