Bengal Liberty: বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক সমীক্ষায় চাঞ্চল ছড়িয়ে পড়ল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও। ১২ বছরে দারিদ্রসীমার উপরে প্রায় ৫০ কোটি! হ্যাঁ সম্প্রতি এই তথ্যই উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আর্থিক নীতি নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়। মোদি জমানায় জিডিপি বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, এসব নিয়ে লেখালেখিও কম হয়নি। বার বার মনমোহন সিংয়ের আমলের আর্থিক বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে মোদি সরকার। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাঙ্কের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তাতে সেই সমালোচনা রীতিমতো ঝড়ে উড়ে গেল। মোদি জমানাতেই ভারতে তরতরিয়ে কমছে গরিবি।
বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে মোদি সরকারের প্রশংসা
সমীক্ষা বলছে ২০১১-১২ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই ১২ বছরে ভারতে দারিদ্রসীমার ঊর্ধ্বে উঠেছে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ। জানা গিয়েছে, বিশ্বব্যাঙ্ক ২০২১ সালের রোজগার ও ক্রয়ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে এই সমীক্ষা করেছে। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের দারিদ্র ২০১১ সালে ৫৭.৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে সেটা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ১৬.১ শতাংশে। বলে রাখা ভালো, যাঁদের দৈনিক রোজগার ৪.২০ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৪০ টাকা তাঁদের আর দরিদ্র হিসাবে ধরা হবে না।
অতি দারিদ্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আশাপ্রদ।
এই ১২ বছরে অতি দরিদ্রের সংখ্যা ২৭.১ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। যাঁদের দৈনিক রোজগার ২৮৫ টাকার বেশি তাঁরা অতি দরিদ্রের শ্রেণিতে পড়ছেন না। দারিদ্রের সংখ্যা সার্বিকভাবে আশাপ্রদ হলেও গ্রামাঞ্চলে গরিবের সংখ্যাটা এখনও উদ্বেগের। গ্রামের দিকে এখনও গরিব মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৯,৩ শতাংশ। যা শহরাঞ্চলের থেকে প্রায় ৮,৫ শতাংশ বেশি। তবে দেশে ধনবৈষম্য নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। এখনও নিচুতলার ১০ শতাংশ মানুষের রোজগারের তুলনায় উপরতলার ১০ শতাংশ মানুষের রোজগার প্রায় ১৩ গুণ।
আরও খবর
বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের। এর কারণ হিসেবে যা জানা গিয়েছে সেটা হল, এই সময় বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের সুবাদে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি টাকা কিংবা খাদ্যশস্য পৌঁছে গিয়েছে। আর এতেই এই পরিসংখ্যানে নিজেদের সাফল্য দেখছে মোদি সরকার। যা মোদি সরকারের অন্যতম এক গর্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


