Bengal Liberty: আইডিবিআই ব্যাংক বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে রাহুল গান্ধির সমালোচনার জবাবে শুক্রবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাফাল বিতর্কের সময় যেমন রাহুল গান্ধিকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল, এক্ষেত্রেও তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। রাহুল গান্ধি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকার এমন একটি ব্যাংক বিক্রি করে দিচ্ছে, যা কংগ্রেস শাসনকালে দেশের শিল্প বিকাশে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আইডিবিআই ব্যাংক বিক্রির সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে রাহুল গান্ধির সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ‘এক্স’ -এ এক পোস্টে নির্মলা সীতারমন লিখেছেন, “রাফাল নিয়ে আপনার মিথ্যাচার ব্যর্থ হয়েছিল এবং তা ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। আপনাকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। এক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে।” তাঁর দীর্ঘ পোস্টে তিনি কংগ্রেস শাসনকালে ব্যাংকিং জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এর আগের দিনই রাহুল গান্ধি বলেছিলেন যে, দেশের শিল্প বিকাশে সহায়তা করার লক্ষ্যে তাঁর দলের সরকারের আমলেই আইডিবিআই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তিনি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কানাডাভিত্তিক ফেয়ারফ্যাক্স ফিন্যান্সিয়াল হোল্ডিংসের কাছে এই ব্যাংকের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পরপরই তাঁর এই মন্তব্য এল।
কংগ্রেসের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সীতারমন দলটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করত এবং যথাযথ ঋণ প্রদানের নিয়ম না মেনেই ঋণ অনুমোদনের জন্য কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু করে বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে ব্যবসায়ী হরিদাস মুন্ধরা কংগ্রেস নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে এলআইসি থেকে অর্থ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১৯৭৬ সালে এসবিআই -এর তৎকালীন চেয়ারম্যান আর কে তলওয়ারকে অপসারণের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, সঞ্জয় গান্ধির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যুক্ত একটি কোম্পানির জন্য ঋণের শর্ত শিথিল করতে অস্বীকার করায় ইন্দিরা গান্ধির সরকার তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিল। সীতারমন আরও অভিযোগ করেন যে, মারুতিকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সঞ্জয় গান্ধি সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বি জনার্ধন পূজারির নামও উল্লেখ করেন, যিনি ইন্দিরা গান্ধি ও রাজীব গান্ধির আমলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আরও খবর
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আশির দশকে তিনি ব্যাংক কর্মীদের ওপর ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী ইউপিএ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী পবন কুমার বনসলের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, বনসল কানাড়া ব্যাংককে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। সীতারমণ বলেন, এনডিএ সরকার পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বিচক্ষণ ঋণ প্রদান পদ্ধতি এবং ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূলধন জোগানের মাধ্যমে এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করেছে।
তিনি দাবি করেন যে, কংগ্রেসের শাসনামলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ নিত, অথচ সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মকানুন প্রয়োগ করা হতো। মোদি সরকারের আমলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সীতারমন বলেন, “কংগ্রেস আমলের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য ছিল ‘ফোনবুক’ (অর্থাৎ ফোন কলের মাধ্যমে কাজ হাসিল করার সুবিধা), আর সাধারণ নাগরিকদের জন্য ছিল কঠোর নিয়মকানুন।”
তিনি আরও বলেন, “যোগাযোগ ও তদ্বিরের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার” যুগ শেষ হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষ অনেক সহজে ঋণ পেতে পারেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফোন কলের চাপে ব্যাংক কর্মীদের আর ঋণ অনুমোদনের জন্য কোনো চাপের মুখে পড়তে হয় না।


