শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অর্জুন সিং
শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অর্জুন সিং

মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্জুন সিং, অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, “যাঁরা ভাবছেন শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্গুলিহেলনে কাজ করব, সবাইকে ওয়ার্নিং দিচ্ছি। সরকার পাল্টালে কেউ বাঁচাবে না। সেই সব পুলিশ অফিসারদের বলব, একটা নাম চিহ্নিত করে রাখা আছে। দু’বছর পর সরকার বদলালে কার কী পরিণতি হয়, দেখবেন।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে পুরস্কৃত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁর আপ্তসহায়ককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

অভিষেকের মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সল্টলেকে ‘জনতার দরবার’ থেকে নাম না করে অভিষেককে নিশানা করে তিনি বলেন, “মনে হয়, তাঁর যে চ্যালা ক্যামাক স্ট্রিটের হয়ে টাকা তুলতেন, তিনি সব বলে দিয়েছেন।” এরপরই কটাক্ষের সুরে অভিষেকের সাম্প্রতিক বিদেশযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, “মনে হয় সোডিয়াম-পটাশিয়ামে গন্ডগোল হয়েছে। নিউ ইয়র্কে যেতে চাইছেন, যান। আমরা এনওসি দিয়ে দেব।”

এর মধ্যেই নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে অর্জুন সিংয়ের মন্তব্য। তাঁর দাবি, “অভিষেকের হায়ার করা লোক আছে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর রাখছে।” পরিবহণমন্ত্রীর অভিযোগ, ১৮০ জনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপে পেশাদার নজরদারির কাজে যুক্ত ব্যক্তি এবং জেহাদিরাও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই কর্মকাণ্ডের পিছনে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করেছেন অর্জুন। তাঁর কথায়, “তারা মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্ট, কোথায় যাচ্ছেন, কোন কোন জায়গায় যাচ্ছেন, কোথা থেকে বেরোলেন, সব খবর রাখছে। সবটাই ওদের স্পাইগিরি। ক্ষতি করার জন্য এটা করা হচ্ছে। অভিষেক করাচ্ছে।” এরপরই তাঁর দাবি, “আমার মনে হচ্ছে, অভিষেককে ইমিডিয়েট গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার।”

বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিকবার শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা চালানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ বিজেপির। তবে সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের। বিজেপির বক্তব্য, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতি সামনে আসছে। সেই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইছেন।

এদিকে, অর্জুন সিংয়ের অভিযোগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, গত জুলাই মাসে পূর্ব বর্ধমান থেকে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য শামীমকে গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছিল। সেই নথিতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্যও ছিল বলে দাবি করেছিল এসটিএফ। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়। অভিষেকের হুঁশিয়ারি এবং অর্জুন সিংয়ের সাম্প্রতিক অভিযোগ—দু’টি বিষয়কেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে জেড প্লাস নিরাপত্তা পান শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বাইরে সফরের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নিরাপত্তা জেড থেকে জেড প্লাস পর্যায়ে উন্নীত করেছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা বলয়ে প্রায় ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী, সশস্ত্র কমান্ডো, বুলেটপ্রুফ গাড়ি এবং পাইলট ও এসকর্ট গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের দলের ক্ষমতায় ফেরার কথা বলছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। অর্জুন সিংয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ওই কথিত জেহাদি-যোগ থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত রয়েছে? যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আগেই আঁচ করেছিলেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “পাঁচ মাস ধরে আবর্জনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এখনও হয়তো পুলিশে ওদের কিছু লোক রয়ে গিয়েছে। যাঁরা ওদের খোঁজখবর দিচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

Bengal Liberty