Bengal Liberty
নতুন করে দল সাজাচ্ছেন নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বসার পর নীতিন নবীন আজ, সোমবার, নতুন সাংগঠনিক টিম ঘোষণা করলেন। নতুন কমিটিতে আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি অভিজ্ঞ নেতা এবং তরুণ প্রজন্মের উপরেও ভরসা রেখেছে দল।
বিজেপির নতুন কমিটি
সবচেয়ে বড় চমক রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। একইসঙ্গে বড় চমক দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকে রাজনীতির ময়দানে তাঁর সক্রিয়তা কিছুটা কম ছিল। তবে এবার স্মৃতিকে দেওয়া হয়েছে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতিদের ১৩ জনের মধ্যে ৬ জনই মহিলা। পাশাপাশি রয়েছেন চার জন মহিলা সম্পাদক এবং এক জন মহিলা সাধারণ সম্পাদক। মুসলিম সম্প্রদায়ের দু’জন নেতাকেও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর

গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্মৃতি ইরানি
পশ্চিমবঙ্গের নেত্রী মধুছন্দা করকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে দেওয়া হয়েছে সাধারণ সম্পাদকের পদ। অন্যদিকে, দীর্ঘ এক দশক ধরে আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা অমিত মালব্যকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কেকে।

দলের বিভিন্ন মোর্চার শীর্ষপদেও এসেছে বড় পরিবর্তন। হেমাং যোশীকে নতুন বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি এবং রূপ কুমারী চৌধুরীকে মহিলা মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে। আম আদমি পার্টি (AAP) ছেড়ে বিজেপিতে আসা সন্দীপ পাঠককে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের দায়িত্বে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে সম্বিত পাত্রকে।
বিজেপির জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় বসুন্ধরা রাজের পাশাপাশি রয়েছেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত, দিল্লির রাম মাধব, ওড়িশার বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, অন্ধ্রপ্রদেশের ডি পুরন্দেশ্বরী, উত্তরপ্রদেশের রেখা বর্মা এবং পঞ্জাবের সরদার মনপ্রীত সিং বাদল। এছাড়াও গুজরাটের বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই দোশি, মহারাষ্ট্রের ড. ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মধ্যপ্রদেশের লাল সিং আর্য, কর্নাটকের এম নাগরাজ এবং উত্তরপ্রদেশের তারিক মনসুর এই তালিকায় রয়েছেন।

বিজেপির যোগাযোগ কৌশলের দায়িত্বে মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবে অনিল বালুনিকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁকে সহযোগিতা করবেন আশিস উষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারি এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে দীপক ম্হাসকেকে। তাঁকে সহযোগিতা করবেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভট্ট এবং অরুণ যাদব।
৪৬ বছর বয়সে বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন নীতিন নবীন। ২০২৭ সালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ এবং গোয়া। ফলে নতুন সাংগঠনিক নিয়োগের সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় এই পরিবর্তনকে শুধু অভ্যন্তরীণ রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আগামী নির্বাচনী পর্বের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দলের এই নতুন টিমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।


