অভিষেকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অশান্তি
অভিষেকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অশান্তি

অভিষেকের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অশান্তি: শুভেন্দুর দায় চাইলেন কল্যাণ, পালটা প্রশ্ন বিজেপির

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূলের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, এলাকার স্থানীয় বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা হিসেবে এই ঘটনার নৈতিক দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না শুভেন্দু অধিকারী। একজন সাংসদের পাশাপাশি ভবানীপুরের দীর্ঘ ৪৫ বছরের পুরোনো বাসিন্দা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে কল্যাণবাবু বলেন, “কংগ্রেস জমানার শেষ ভাগ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ বাম জামানা এবং পরবর্তীতে আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভবানীপুরের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু কোনো বিধায়কের তত্ত্বাবধানে এই ধরনের গুন্ডামি আমি বা ভবানীপুরের সাধারণ মানুষ কখনো দেখেননি।” তিনি আরও যোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে শুভেন্দু অধিকারী কতটা নিচে নামতে পারেন, এটি তারই প্রমাণ। এই ঘটনার ফলে সমগ্র ভবানীপুর এলাকা জুড়ে এক ধরনের ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূলের এই সমস্ত অভিযোগ ও তোপ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা ননী ধর পাল্টা প্রশ্ন তুলে শাসকদলের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তৃণমূলের অভিযোগের জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “কালীপুজোর আগের মুহূর্তে কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ব্যস্ততা কারোর অজানা নয়। এ সময়ে রাতের দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন বিভিন্ন জায়গা থেকে পাড়ার বা বাড়ির পুজোর প্রতিমা নিতে পটুয়াপাড়ায় আসেন। এমন এক অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে মূল রাস্তা আটকে কীভাবে জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করা হতে পারে?”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যারা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, তারা দশকের পর দশক ধরে কালীপুজোর আগে পটুয়াপাড়ার এই ভিড় ও ব্যস্ততার চিত্র দেখে অভ্যস্ত। স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো এবং উৎসবের মুখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করা নিয়ে উল্টে তৃণমূলের উদ্যোগকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীপুজোর আবহেই রাজপথের রাজনীতি এখন শাসক-বিরোধী তরজায় রীতিমতো উত্তপ্ত।

Bengal Liberty