Bengal Liberty : পুজোয় বামেদের বুকস্টল ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। কোথাও বুকস্টল করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, কোথাও আবার স্টলে হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, সরকার উৎসব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বামপন্থীদের বুকস্টল বন্ধ করাই যেন প্রশাসনের কাছে প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বামেদের অভিযোগ, কখনও আইনের নামে পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে, কখনও আবার বিভিন্ন জায়গায় বুকস্টলে হামলার চেষ্টা হচ্ছে। কোথাও পুলিশের অতিসক্রিয়তা, আবার কোথাও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছে বাম শিবির। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি বুকস্টলগুলি রক্ষা করতে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।
সেলিম বলেন, উৎসবের মরশুমে তাঁরা বড় কোনও কর্মসূচি নিচ্ছেন না। তবে বুকস্টলে হামলা বা বাধা দেওয়া হলে, তা প্রতিহত করতে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর দাবি, শত বাধা সত্ত্বেও বুকস্টলগুলিতে প্রচুর মানুষ আসছেন। বই কিনছেন, পড়ছেন এবং বামপন্থী মতাদর্শ সম্পর্কে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আরও খবর
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্য, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, সেই আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা এবং শোষণহীন ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠনের লড়াই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। শিক্ষা, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নেও তরুণ প্রজন্ম পথে নামছে। তাদের কাছে আরও বেশি করে বই ও বামপন্থী চিন্তাভাবনা পৌঁছে দেওয়াই দলের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। বাংলা-সহ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার যে কোনও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে বলেও বার্তা দিয়েছেন সেলিম।
উল্লেখ্য, পুজোর মণ্ডপে বামেদের বুকস্টল করা নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেখানে টেবিল বা ছাতা পেতেও স্টল করার অনুমতি নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুকস্টল রক্ষার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সিপিএম।


