Bengal Liberty : ফিফা সভাপতি পদে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ফুটবল দুনিয়ায় বাড়ছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চর্চা। ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি পদে ফের নির্বাচনে লড়তে পারেন বর্তমান সভাপতি। তার আগেই বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে বড়সড় আর্থিক সুবিধা পেতে পারে ভারতও। বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে!
সূত্রের খবর, ফিফার নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরের চক্রে প্রতিটি সদস্য ফুটবল সংস্থাকে ২ কোটি ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা। এর আগে, ২০২৩-২৬ সালের চক্রে প্রতিটি সদস্য সংস্থার জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে আগের তুলনায় আড়াই গুণ অর্থ পেতে পারে সদস্য দেশগুলি। সব মিলিয়ে ফুটবলের উন্নয়নে প্রায় ৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ফিফার। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্ক ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

তবে এই বিপুল অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা কাউন্সিলে প্রস্তাবটি নিয়ে ডিসেম্বরে আলোচনা হওয়ার কথা। এরপর ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা কংগ্রেসে সদস্য সংস্থাগুলির অনুমোদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ফলে এখনই ভারতীয় ফুটবল সংস্থা (এআইএফএফ)-এর হাতে এই টাকা আসছে, এমনটা বলা যাবে না।
আরও খবর
রাজনৈতিক মহলের মতো ফুটবল প্রশাসনেও নির্বাচনের আগে সমর্থন আদায়ের কৌশল নতুন নয়। ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি পদে ফের নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইনফান্তিনোর। সেই পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলির ফুটবল উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, ফিফার বাণিজ্যিক সাফল্য এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে সম্ভাব্য আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই অর্থ পাওয়া গেলে ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, যুব প্রতিভা তুলে আনা এবং মহিলা ফুটবলের প্রসারে জোর দেওয়া সম্ভব হবে। তবে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ কীভাবে খরচ করা হবে, সে দিকেও নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এখনও জায়গা করে নিতে পারেনি ভারতীয় দল। কিন্তু ফিফার এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের ফুটবলের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিভা বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, ইনফান্তিনোর এই আর্থিক প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সিলমোহর পড়ে কি না এবং সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় ফুটবল কতটা এগিয়ে যেতে পারে।


