Bengal Liberty
বর্ধমানের একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হলো হামিদ মণ্ডল নামে এক যুবককে। তদন্তকারীদের দাবি, কাশ্মীরের বিতর্কিত ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর সদস্য ছিল এই হামিদ (Hamid Mondal) । তার মূল নিশানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ দীর্ঘদিন একটি গেঞ্জি কারখানায় দর্জির কাজ করত। তার বাবাও ওই একই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে নিউটাউনের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে সে। কাকতালীয়ভাবে, সেই ভাড়া বাড়ির খুব কাছেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী যে পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন, সেই রাস্তায় সে রেকি চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

বর্ধমানে জঙ্গি যোগের তদন্ত Hamid Mondal
ছোটবেলা থেকে হাওড়ার অবাঙালি পাড়ায় বড় হওয়ার সুবাদে হামিদ এবং তার বাকি দুই ভাই-বোনের কথায় হিন্দি ও উর্দুর স্পষ্ট টান রয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিদের বাবা মনিরুদ্দিনের ভাই দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমানের নবাবহাট মোড়ের কাছে একটি জাতীয় সড়কের সংলগ্ন আবাসনে থাকেন। গত এপ্রিল মাসে হাওড়ার পাট চুকিয়ে বর্ধমানে স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মনিরুদ্দিন। ভাই ও এক দালালের সাহায্যে সেখানকার একটি অভিজাত আবাসনে সপরিবারে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন তিনি। ফ্ল্যাটটির মালিক একতা মেহরা দিল্লিতে থাকেন, আর তাঁর ভাই স্থানীয়ভাবে ফ্ল্যাটটি দেখভাল করেন। তিনিই মনিরুদ্দিনকে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন। আবাসনের বাসিন্দারা জানান, হামিদের ব্যবহারে সন্দেহজনক কিছু তাঁদের চোখে পড়েনি। তবে সে নিয়মিত আবাসনটির জিমন্যাসিয়ামে শরীরচর্চা করত। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে জিম করতে দেখা গিয়েছে।

তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য
তদন্তকারী সূত্রের খবর, হাওড়ার পিলখানায় দর্জির কাজ করার সময় কোনো সমস্যা তৈরি হওয়ায় হামিদ বর্ধমানে চলে যায়। সেখান থেকেই সে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের জন্য তথ্য পাচারের কাজ করত। কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। গোয়েন্দা বিভাগের আশঙ্কা, হামিদ ছাড়াও আরও চারজন এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই তার বাড়িতে তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও খবর

অভিযোগ, বর্ধমানে থাকাকালীন ডিজিটাল মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করত হামিদ। কাশ্মীরের ‘সাজ্জাদ ভাট’ গোষ্ঠীর অন্তত ছয়জন সদস্যের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি স্ক্যান করে সে পাঠিয়ে রাখত বলে প্রমাণ মিলেছে।

উল্লেখ্য, জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি সাজ্জাদ ভাট ছিল ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে হামলা চালানো ঘাতক গাড়িটির মালিক। জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার মারহামা এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ ওই পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনের ‘ফিদায়েঁ’ স্কোয়াডের সদস্য ছিল। পুলওয়ামা হামলার পর এনআইএ তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে এবং ২০১৯ সালের ১৮ জুন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে সে নিহত হয়। তবে সাজ্জাদের প্রতিষ্ঠিত এই গ্যাংটির কাজ ছিল পূর্ব ভারতে যুবকদের মগজধোলাই করা। তারা মূলত সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিরিয়ানি ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতাদের টার্গেট করত। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানেও ছড়িয়ে রয়েছে এদের নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কে হামিদের শিকড় কত দূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।


