Bengal Liberty : কলকাতার একটি বাড়ির ভিতরেই চলছিল বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা! গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালাল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। উদ্ধার হয়েছে একাধিক বন্দুক, দেশি পিস্তল, কার্তুজ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযানের আগেই বাড়ির মালিক পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁকে চিহ্নিত করা গেলেও এখনও তাঁর নাগাল পাননি তদন্তকারীরা। পুজোর আবহে এবং পুরভোট শুরুর মুখে খাস কলকাতায় এই বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিস ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
উদ্ধার দু’টি ৭ এমএম বন্দুক
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার কলকাতার নাদিয়াল থানার অন্তর্গত আয়ুবনগরের একটি বাড়িতে হানা দেন এসটিএফের আধিকারিকরা। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে দু’টি ৭ এমএম বন্দুক, দু’টি দেশি পিস্তল এবং কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি, আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ওই বাড়ির মালিকই সেখানে গোপনে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। তবে এসটিএফের অভিযান শুরু হওয়ার আগেই তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এই ঘটনায় নাদিয়াল থানায় অস্ত্র আইনের অধীনে মামলা রুজু করেছে এসটিএফ। অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ভোটের আগে অস্ত্র কারবারের পিছনে কারা
ওই বাড়িতে কত দিন ধরে বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি হচ্ছিল, কোথা থেকে তার সরঞ্জাম আসত, কারা এই অস্ত্রের বরাত দিত-এখন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে, সম্প্রতি উপনির্বাচন শেষ হয়েছে। পুজোর পরেই পুরভোটার বাদ্যি বাজবে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা নির্বাচনী হিংসার যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।


