CPM Book Stall
CPM Book Stall

১৬ লক্ষ ২ হাজার ৪৯৮ টাকার বই বিক্রি করেছে বামেরা

Bengal Liberty : কোথাও বই ছুড়ে ফেলা বা পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। এই বছরের দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল ঘিরে একাধিক ঘটনা উঠে এসেছে শিরোনামে। সেই বিতর্কের মধ্যেই বই বিক্রির পরিসংখ্যানকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বাম শিবিরে। হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার যাদবপুরের মার্ক্সীয় সাহিত্য বিপণিতে বই বিক্রি প্রায় চার গুণ বেড়েছে। মোট বিক্রির অঙ্ক ১৬ লক্ষ ২ হাজার ৪৯৮ টাকা। প্রশ্ন উঠছে, বুকস্টল ঘিরে সংঘাত ও বিতর্কই কি পাঠকদের আরও বেশি করে টেনে এনেছে বইয়ের কাছে?

প্রতি বছরের মতো এবারও যাদবপুরে বামেদের বই বিপণির উদ্বোধন করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। গান, আড্ডা এবং বই কেনাবেচার মধ্যেই বুকস্টলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুলডোজার নিয়ে হাজির হওয়ার ঘটনাও ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। বাম কর্মীরা বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাঙচুর আটকানোর চেষ্টা করেন। সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শাসক দলের কয়েকজন নেতা-বিধায়কও বইয়ের স্টল ভাঙচুরের নিন্দা করেন। এরপরেই সামনে আসে বই বিক্রির পরিসংখ্যান। গত বছর যাদবপুরের বুকস্টলে বিক্রি হয়েছিল প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকার বই। এবার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ ২ হাজার ৪৯৮ টাকা। অর্থাৎ, বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

যাদবপুরের পাশাপাশি নাগেরবাজার থেকে শিলিগুড়ি, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বই বিপণিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বামেদের দাবি, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০০টি বুকস্টল আক্রান্ত হয়েছে। কোথাও বই ছুড়ে ফেলা হয়েছে, কোথাও বই পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ১৫ থেকে ২০টি স্টল আর খোলা সম্ভব হয়নি বলে দাবি বাম শিবিরের। তবে বাকি ৮০ থেকে ৮৫টি স্টল ফের চালু করা হয়েছে। কোথাও কোথাও টোটো বা ভ্যানে বই নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেও বিক্রি করেছেন বাম কর্মীরা। বাম নেতা সুদীপ সেনগুপ্তের দাবি, বুকস্টল ঘিরে বাধা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বহু মানুষ পথে নেমেছেন। তাঁর বক্তব্য, বই বিক্রি চার গুণ বেড়েছে এবং বুকস্টলে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যেখানে স্টল বসাতে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখানেই বই বিক্রি বেড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিধানসভায় ‘শারদীয়া বুকস্টল’ নাম ব্যবহার নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের প্রসঙ্গেও সরব হন সুদীপ। তাঁর অভিযোগ, নামকরণ নিয়ে বিতর্ক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতে বামপন্থী দলগুলির মধ্যে ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন জায়গায় সিপিএম, লিবারেশন ও এসইউসিআই কর্মীরা পরস্পরের বুকস্টল রক্ষায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। বামেদের বই বিক্রির যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, এই বছর শুধু যাদবপুরেই বই বিক্রি হয়েছে ১৬ লক্ষ ২ হাজার ৪৯৮ টাকা। গত বছর বিক্রি হয়েছিল সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। বাগবাজার: গত বছর ১ লক্ষ টাকা, এ বছর প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা। বিজয়গড়ে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বই বিক্রি হলেও এবার বিক্রির অঙ্ক ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে নেতাজি নগর-নারকেলবাগানে এই বছর বামেদের বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বই।

সম্প্রতি নাগেরবাজারের একটি বুকস্টল ঘিরে সংঘাতের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে এক তরুণকে স্টলে রাখা বই মাটিতে ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, এক বৃদ্ধ তাঁকে শান্তভাবে বইগুলি দেখে নেওয়ার অনুরোধ জানান। সেই ঘটনায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ বইটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘিরে নানা মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সেইসঙ্গে বনগাঁয় বামেদের বুক স্টল দেওয়ার বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে বামেরা যেখানে বুক স্টল বসাতে পারেনি। সেইসঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বুক স্টলে ভাঙচুরও চালানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে পুজোয় বামেদের লক্ষাধিক টাকার বই বিক্রি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Pushpak Bhattacharya
পুষ্পক ভট্টাচার্য

পুষ্পক ভট্টাচার্য একজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ২০২৬-এ Bengal Liberty-তে সাংবাদিক হিসেবে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি বিশেষ আগ্রহ। দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং খেলাধুলার নানা বিষযয়ের প্রতি বিশেষ ঝোঁক। ব্যস্ততার বাইরে বই ও সিনেমা সঙ্গী।