Kolkata Hotel Fire: কপাল জোরে বদলেছিল ঠিকানা! শিখা ইনের ভয়াবহ আগুনে প্রাণে বাঁচলেন অসমের দুই বন্ধু

Bengal Liberty:

চিকিৎসা নয়, ব্যবসার কাজেই বারবার কলকাতায় আসতেন অসমের দুই বন্ধু। কলকাতায় এলেই তাঁদের ঠিকানা বলতে ছিল একটাই—‘শিখা ইন’। গত কয়েক বছরে প্রায় ছ’বার কলকাতায় এসেছেন তাঁরা। আর প্রতিবারই থেকেছেন এই হোটেলে(Kolkata Hotel Fire)। পরিচিত ম্যানেজার, ভালো ব্যবহার, পরিচিত পরিবেশ এবং আশপাশে ভালো খাবারের জন্য হোটেলটির প্রতি তাঁদের আলাদা টানও তৈরি হয়েছিল।

Advertisement
Advertisement

মুহুর্তের সিদ্ধান্তে বাঁচল প্রাণ(Kolkata Hotel Fire)

 

এবারও কলকাতায় থাকার পরিকল্পনা ছিল একই রকম। বুধবার থেকে শিখা ইনে তাঁদের ঘর বুক করাও ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কলকাতায় আসার পর এক বন্ধুর অনুরোধে বদলে গেল সেই পরিকল্পনা। বন্ধুর জোরাজুরিতে শিখা ইনে না উঠে অন্য একটি হোটেলে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তখনও কি তাঁরা জানতেন, ওই ছোট্ট সিদ্ধান্তই হয়তো তাঁদের জীবন বাঁচিয়ে দেবে?

 

মঙ্গলবার রাতেই ভয়াবহ আগুন লাগে শিখা ইনে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিভিন্ন অংশে। যে হোটেলে বুধবার তাঁদের থাকার কথা ছিল, সেই হোটেলেই ঘটে যায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। প্রাণ হারান একাধিক মানুষ। আর ঠিক সেই রাতেই অন্য হোটেলের ঘরে ছিলেন অসমের দুই বন্ধু।

Kolkata Hotel Fire
Kolkata Hotel Fire

কলকাতার ঠিকানা(Kolkata Hotel Fire)

 

ঘটনার কথা জানার পর কার্যত স্তব্ধ তাঁরা। যে হোটেলকে কলকাতায় নিজেদের দ্বিতীয় ঠিকানা মনে করতেন, সেই জায়গাটিই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিণত হল ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে। তাঁদের কথায়, বন্ধুর সেই অনুরোধ না থাকলে কী ঘটত, তা ভাবতেই শিউরে উঠছেন। যে রিসেপশনিস্ট তাঁদের অন্য হোটেলে থাকার জন্য রাজি করিয়েছিলেন, তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা।

 

এদিকে শিখা ইনের অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলছে। পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। বিল্ডিংয়ের নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোনও বেআইনি নির্মাণ বা নিয়মভঙ্গ হয়েছিল কি না, সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মৃতদের নাম ও বয়সের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

 

Kolkata Hotel Fire 

 

তদন্তেই আগুনের আসল কারণ সামনে আসবে। কিন্তু অসমের এই দুই বন্ধুর কাছে এই ঘটনা হয়তো সারাজীবন মনে করিয়ে দেবে একটাই কথা—কখনও কখনও বন্ধুর জোরাজুরি, একটি বদলে যাওয়া ঠিকানা এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার সিদ্ধান্তই জীবনের গল্পটা পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুনঃ  নাকাশিপাড়ায় জোড়া খুনের প্রতিবাদ! থানায় ডেপুটেশন কংগ্রেসের

Bengal liberty
Bengal liberty

Bengal Liberty is a platform dedicated to guerrilla, unfiltered, and independent journalism. Through YouTube, its official website, and various social media channels, Bengal Liberty seeks to present citizen journalism to the public with integrity and transparency. Editor: Bittu Roy Chowdhury