Bengal Liberty:
চিকিৎসার আশায় ওপার বাংলা থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। অথচ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁদেরই কয়েকজনের প্রাণ গেল। শোকস্তব্ধ কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা অন্যান্য বাংলাদেশিরাও। দুই বাংলার ভাই-বোনের সম্পর্কের আবহে এমন ঘটনা স্বাভাবিক নয়—নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, দাবি বাংলাদেশিদের একাংশের।

মৃত ৯ বাংলাদেশি(Kolkata Hotel Fire)
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরই সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তাঁদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন মহিলা এবং একটি শিশুও। সূত্রের খবর, প্রত্যেকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন এবং সেই কারণেই ওই হোটেলে থাকছিলেন।
আরও খবর
প্রিয়জনের খোঁজে(Kolkata Hotel Fire)
ঘটনার পর হোটেলের সামনে জড়ো হন কলকাতায় চিকিৎসার জন্য আসা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নয়। তাঁদের আশঙ্কা, ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ওই হোটেলকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে একই ঘটনায় এতজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। তাই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কি না, বাংলাদেশি নাগরিকদেরই কি পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল—তার উত্তর খুঁজছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা ওপার বাংলার মানুষ।
ষড়যন্ত্রের আঁচ(Kolkata Hotel Fire)
বাংলাদেশের নোয়াখালি থেকে আগত আনোয়ার হোসেনের দাবি, বাংলাদেশের গৃহযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছিল ভারত সরকার। সেই ঘটনার পর ওপার বাংলায় নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ধীরে ধীরে ভারতে আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে। একে একে টুরিস্ট ভিসার অনুমোদনও দিচ্ছে ভারত সরকার। ফলে দুই বাংলার সম্পর্ক আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। সেই সম্পর্ক নষ্ট করতেই কেউ বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছেন ওই ব্যক্তি।

ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক (Kolkata Hotel Fire)
এই বক্তব্য থেকে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন আগেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। সেই বক্তব্যের পর কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং তাতে একসঙ্গে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদের শনাক্তকরণ এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সমন্বয়ের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন। একইসঙ্গে মৃতদের পরিবারের কাছে দেহ হস্তান্তর থেকে শুরু করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত(Kolkata Hotel Fire)
তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ—তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। কিন্তু বাংলাদেশি নাগরিকদের দাবি, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের এমন আবহে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও চক্রান্ত ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ বিতর্কিত নির্দেশ প্রত্যাহার: স্বস্তিতে জোসেফ বিজয় শাসিত তামিলনাড়ুর পড়ুয়ারা


