Bengal Liberty: বাংলাদেশি সন্দেহে প্রায় দু-মাস গারদে। কেবল মাত্র সন্দেহের বশে কোনো ব্যক্তিকে আটক করা যায়? প্রশ্ন তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। কোন নথির ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশি বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে পুলিশ, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালতের প্রশ্ন
বাংলাদেশি সন্দেহে এক ব্যক্তিকে প্রায় দু’মাস ধরে আটক রাখার মামলায় একাধিক প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, “১৯৭০-এর দশকে কতজন সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন? প্রত্যেককে কি ফেরত পাঠানো সম্ভব? সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে যান, সেখানে এই রকম মানুষ কত আছেন। এটা কি আদৌ সম্ভব?” আদালতের বক্তব্য, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখা যায় না।
অভিযোগ, গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশি সন্দেহে রানিনগর থানার পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ১০ অগস্ট তাঁকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আধার ও প্যানের মতো নথি বাতিল না করে কীভাবে একজনকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করা হল? পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির জাতীয়তা প্রমাণ করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, “কেউ যদি তাঁর মৃত বাবার ছেলে, এটাও প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে কি তিনি বাংলাদেশি হয়ে যাবেন?”
আরও খবর
রাজ্যের দাবি
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এই ধরনের একাধিক মামলা অন্য বেঞ্চে চলছে। তাঁর আরও বক্তব্য, জাল নথি ব্যবহার করে আধার বা প্যান তৈরি করা হয়ে থাকলে তা নির্বাসনের কারণ হতে পারে। পাল্টা আদালতের বক্তব্য, কাউকে নির্বাসনের আগে তাঁর নাগরিকত্ব নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।এরপর মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি জানান, বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে।


