Bengal Liberty : রাজ্যে পালাবদলের পর বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। আর সেই সমীকরণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাচ্ছে বহু পরিচিত মুখের সুরও? একের পর এক মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীকে নতুন সরকারের প্রশংসায় মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন চিকিৎসক রাজেশ প্রামাণিক (BJP Government)। দীর্ঘদিন ধরে যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবেই পরিচিত বলে রাজনৈতিক মহলে জানা গিয়েছে। সেই রাজেশের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। পরক্ষণেই পোস্ট ডিলিট করে দেন তিনি। মুছে ফেলা পোস্টে নতুন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের উদ্যোগের প্রশংসায় কার্যত উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায় রাজেশকে। শুধু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশংসাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও সাধুবাদ জানান তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এ কি শুধুই স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে একজন চিকিৎসকের ইতিবাচক মত? নাকি পালাবদলের পর নতুন সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর কৌশল (BJP Government)?

কী লিখেছিলেন রাজেশ? (BJP Government)
রাজেশ প্রামাণিক তাঁর পোস্টের শুরুতেই লিখেছিলেন, “জীবনে এই প্রথম দেখলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেলথ সেন্টারে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ার্টারের কথা ভাবছেন।” তিনি লেখেন, মুখ্যমন্ত্রীও দ্রুত এসি কোয়ার্টার অনুমোদন করেছেন। এই উদ্যোগকে তিনি ‘খুব দরকার’ বলে উল্লেখ করে স্পষ্ট বার্তা দেন, ‘ভরসা পাচ্ছি।’ শুধু আবাসনের বিষয় নয়। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকেও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, হেলথ সেন্টার যদি সাবডিভিশন স্তরে কার্যকর চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারে, তাহলে তার সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ। রাজেশের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ এবং সম্মানের প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মান পেলেই চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন। এমনকি রাজ্যের এমবিবিএস চিকিৎসকদের নিয়েও যথেষ্ট আশা প্রকাশ করেন রাজেশ। তাঁর বক্তব্য, এই চিকিৎসকদের যদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার “মেরুদণ্ড” করা যায়, তাহলে তাঁরাই গোটা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারবেন।

পোস্ট করেও পোস্ট মুছলেন চিকিৎসক (BJP Government)
রাজেশের পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “ভরসা পাচ্ছি। আশা দেখছি।” তাঁর দাবি, গ্রাম থেকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। একজন চিকিৎসক একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ায় সেই উদ্যোগের প্রতি তাঁর আস্থার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধু বিল্ডিং নয়, চিকিৎসক, নার্স এবং মেডিক্যাল টেকনিশিয়ানরাই মানুষের জীবন বাঁচান। পাশাপাশি বড় হাসপাতালের পরিকাঠামো তৈরি করলেই যে মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত হয় না, সেই বার্তাও দিয়েছেন রাজেশ। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে কি পূর্বতন সরকারকে পরোক্ষে নিশানা করলেন রাজেশ? এর পরেই শুরু হয় জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা হিসেবেই কি এই পোস্ট করেছিলেন মমতা-ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক? জল্পনা শুরু হতেই রাতারাতি সেই পোস্ট মুছে দেওয়ায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। তবে কেন তিনি পোস্টটি সরিয়ে নিলেন, সে বিষয়ে রাজেশ প্রামাণিকের তরফে কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরও খবর

আরও পড়ুন :
https://bengalliberty.com/2026/08/12/swarup-biswas-6/


