Bengal Liberty:
রাজ্যের একাধিক জেলায় জলমগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার জলসম্পদ দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জলাধারের ধারণক্ষমতার বাইরে জল জমলে জল ছাড়তেই হয়। সেই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে (CM Suvendu Adhikari)।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার(CM Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত কোথাও বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছে, এমন খবর নেই। সেচ দফতরের আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। তাঁর কথায়, এক লক্ষ পর্যন্ত জল ছাড়া হলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। কিন্তু তার বেশি জল ছাড়ার পর কয়েকটি এলাকায় প্রভাব পড়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই এখন প্রশাসনের কাজ।
আরও খবর
খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া ও উদয়নারায়ণপুরের কিছু অংশে জলস্তর বিপদসীমার উপর রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে জল ছাড়ার পরিমাণ এবং বৃষ্টির মাত্রা দু’টিই কমেছে। সেচ দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলের পর থেকে জলস্তর কমার সম্ভাবনাও রয়েছে (CM Suvendu Adhikari)।

প্রস্তুত বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (CM Suvendu Adhikari)
পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক শেল্টার তৈরি রাখা হয়েছে। সেখানে তিনবেলা খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডুবুরি, স্পিডবোট, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ এবং এনডিআরএফ-কে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে এনডিআরএফ নামানোর প্রয়োজন হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)।
শুধু মানুষ নয়, গবাদি পশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের খাবার-পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। হাওড়া ও হুগলি, পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু এলাকাতেও প্রশাসনের আধিকারিক ও বিধায়কদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।

স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা (CM Suvendu Adhikari)
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদীভাঙন রুখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কানপুর আইআইটি এবং কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞদের ডেকে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করানো হবে। পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, এক বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনার কিছুটা সুফল মিলবে এবং দু’বছরের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল দেখা যাবে।

দায় এড়িয়েছে তৃণমূল (CM Suvendu Adhikari)
ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকার যে বারবার ‘ম্যান-মেড বন্যা’র অভিযোগ তুলত, সেই প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, জলাধারেরও জল ধারণের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। সেই সীমার বাইরে জল জমলে জল ছাড়তেই হবে। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল সরকার বলত এসব ম্যান-মেড বন্যা। আদতে কিছু নেই”— এই ধরনের অভিযোগ করে পরিস্থিতির দায় এড়ানো যায় না। তিনি আরও বলেন, ” ডিভিসি এ বছর ভালোভাবে পরিস্থিতি সামলেছে ফলে একটাও বাঁধ ভাঙে নি।”এক লক্ষ পর্যন্ত জল ছাড়ার পরও বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি, কিন্তু তার বেশি জল ছাড়ার পর কিছু এলাকায় প্রভাব পড়েছে। সেই পরিস্থিতিকে দোষারোপ না করে মোকাবিলা করাই সরকারের দায়িত্ব বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)।

আরও পড়ুনঃ মহানায়কের নামে নিউটাউনে ফিল্ম সেন্টার, আর কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?


