Bengal Liberty:
পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন থেকে কোনো আগাম পুনর্বাসন ছাড়াই হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম। এই মর্মে ভারতের রেলমন্ত্রীকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি (hawker issue)। চিঠিতে এই উচ্ছেদ অভিযানকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন সাংসদ।

পুনর্বাসনহীন উচ্ছেদ
সাংসদ সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, বহু প্রজন্ম ধরে রেল স্টেশনগুলি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবেই নয়, বরং হাজার হাজার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস হিসেবে কাজ করে আসছে। এই হকাররা অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাঁরা যাত্রীদের সস্তায় ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন পরিষেবা সরবরাহ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রেলে যে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে, তা কোনো ব্যাপক পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই করা হচ্ছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবার তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে এবং স্থানীয় জনমানসেও গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

রেলমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাংসদ লিখেছেন, একটি কল্যাণকামী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পুনর্বাসন—কেবল স্থানচ্যুতি বা উচ্ছেদ নয়। কোনো পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ দুর্বল পরিবারগুলিকে আরও চরম দারিদ্র্য ও অনিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ভুক্তভোগী হকার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এই বিষয়ে একাধিক অভিযোগ ও স্মারকলিপি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আরও খবর
রেলমন্ত্রীর কাছে ৫ দফা দাবি
এই পরিস্থিতিতে সাংসদ সমীরুল ইসলাম রেলমন্ত্রীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করে ৫টি মূল দাবি জানিয়েছেন:
* পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রেল স্টেশনগুলিতে হকার ও ছোট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে চলমান সমস্ত উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
* জনপ্রতিনিধি, স্বীকৃত হকার সংগঠন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিদ্যমান উচ্ছেদ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
* যেকোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের জন্য একটি সময়াবদ্ধ পুনর্বাসন ও পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
* যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিশ এবং অর্থপূর্ণ পুনর্বাসন ছাড়া কাউকে তাঁর জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
* কোটি কোটি মানুষের সেবাকারী একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেলওয়েকে তার পরিচালনার প্রয়োজনের পাশাপাশি সমাজের দুর্বল শ্রেণীর প্রতি সামাজিক দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।
চিঠির শেষে সাংসদ আশা প্রকাশ করেছেন যে, রেলমন্ত্রী এই মানবিক ও সংবেদনশীল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং এর একটি দ্রুত ও ইতিবাচক সমাধান নিশ্চিত করবেন।


