Bengal Liberty
২০১৪ সালে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারদা চিটফান্ড থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির কাছে পৌঁছেছিল এবং সেই অর্থ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল (Saradha Scam)। Dhaka Tribune তৎকালীন বাংলাদেশি গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধৃত করে অভিযোগ করেছিল যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সারদার অর্থ কোথায় গেল?
আরও গুরুতর বিষয় হল, bdnews24 ২০১৪ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিল যে বাংলাদেশের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কাছে অভিযোগটি তুলেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সারদার অর্থ জামাতের কাছে পাঠিয়ে বাংলাদেশে “large scale disruptions” ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল। এরপর ভারতের NIA-কে অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। একজন ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকও বলেন, “We have taken the allegations made and the inputs given by Bangladesh very seriously.”

The New Indian Express-এর প্রতিবেদনে CBI ও ED-র তদন্তের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়েছিল যে সারদার অর্থ বাংলাদেশে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলির কাছে পৌঁছনোর অভিযোগ তদন্তে আসে এবং এক তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদের মাধ্যমে অর্থ যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
আরও খবর

সারদার টাকার ‘মানি ট্রেল’
তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে এসব তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা-তথ্য ও তদন্ত-সংক্রান্ত অভিযোগ—চূড়ান্ত আদালত-প্রমাণিত সত্য নয়। The Daily Star একই সময়ে জানিয়েছিল যে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানিয়েছিল এবং জামাত অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অস্বীকার করেছিল।

তাই প্রশ্ন একটাই—সারদার আমানতকারীদের টাকা বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি, জামাতের কার্যকলাপ এবং শেখ হাসিনা সরকারকে দুর্বল করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তৃণমূলের কোনও নেতা বা সাংসদের ভূমিকা ছিল কি না এবং এই অর্থের প্রকৃত money trail কোথায়—তার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কি আজও হওয়া উচিত নয়?


