Bengal Liberty:
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে বিধানসভায় তামান্নার মা, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএমের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। অধিবেশন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তামান্না, অভয়ার বিচার প্রসঙ্গে বিজেপি সরকারের তৎপরতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য চলাকালীন জানান, তামান্নার পরিবারের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

ঘটনাচক্রে বিধানসভার পক্ষ থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের কক্ষের যাওয়ার ৫ মিনিট পর শংকর ঘোষের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর করিডরে প্রবেশ করেন তামান্নার মা, মোস্তাফিজুর রহমান এবং মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন, তামান্নার মায়ের পাশাপাশি আনিস খানের বাবা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। নির্বাচন চলাকালীন এবং বিগত দিনে শহীদ হওয়া কমরেডদের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বিষয়টি শুভেন্দু অধিকারীকে দেখবার জন্য অনুরোধ করেন
আরও খবর

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিক বৈঠকে মোস্তাফিজুর জানিয়েছেন, ” আজ মুখ্যমন্ত্রী দেখা করলেন। সঙ্গে ছিলেন তামান্নার মা, আনিস খানের বাবা, এবং মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। নির্বাচন চলাকালীন এবং বিগত দিনে শহীদ হওয়া কমরেডদের মৃত্যুর বিচার, তামান্নার বিচার বিগত বছর ধরে বিচারাধীন অবস্থায় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের। তামান্নার মা, আনিস খানের বাবা ও দীপঙ্করের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দলের নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সঙ্গে ছিলেন। শুধু এই বিষয়গুলো নয়, একাধিক হত্যা, মৃত্যুর বিচার আজও অধরা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখবেন।”
সিপিএমের দলনেত্রী মিনাক্ষী জানিয়েছেন, ” গত পনেরো বছর ধরে আমাদের দলের কর্মী সহ একাধিক সাধারণ মানুষ খুন হয়েছে। বিগত বছরে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সকলের বিচার ও শাস্তির দাবিতে আজ আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ সকলেই যাতে শাস্তি পায়, আরজিকরের বিচার হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রতি বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আমরা সেই আশায় রইলাম। ”
কান্নায় ভেঙে পড়ল অভয়ার মা
আরজিকরের ঘটনা অজানা নয় কারুর। কেঁপে উঠেছিল গোটা বাংলা। ডিউটিরত অবস্থায় একজন চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন, বিচার অধরা ছিল। রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে। আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব কিছুর হিসেব হবে, কোন ছাড় মিলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিধানসভাতে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভয়ার মা।

বিধানসভায় এদিন নিজের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই দু’টি কমিশন তৈরি করেছি যা ক্যাবিনেট অনুমোদন দিয়েছে। মহিলাদের উপর সমস্ত অত্যাচারের যথাযথ বিচারের জন্য কমিশন তৈরি করা হয়েছে। আরজি করেরও বিচার হবে। অভয়াকাণ্ডের বিচার দিতেই বাংলার মানুষ বিজেপিকে জিতিয়ে এনেছে। আমরা ইতিমধ্যেই তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছি। আরও যাঁরা বাকি আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। শুধু অভয়া না। তামান্নার মা বিচার পাবেন। রামপুরহাটের আদিবাসী কন্যার পরিবার বিচার পাবে। কামদুনি, হাঁসখালি, কসবা ল’ কলেজ-এও ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নেওয়া হবে।’


