PM modi
Bengal Liberty: স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমিতে যেই গান এক সময়ে জাতীয় চেতনার প্রতীক হয়ে উঠেছিল এবার চর্চায় সেই ‘বন্দে মাতরম’ গান (Vande Mataram)। ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি। ১৮৭৫ সালে এই গান রচনা করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। শীতকালীন অধিবেশনে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি সংক্রান্ত আলোচনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সম্বোধন ঘিরে বিতর্ক। সংসদে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের বেঞ্চ থেকে উঠে আসে আপত্তি। যদিও পরে ভুল সংশোধন করে নেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ, সোমবার দুপুর ১২টার কিছু পরে বন্দে মাতরম নিয়ে লোকসভায় আলোচনা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বক্তৃতা শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই। বন্দে মাতরমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “এই গান শক্তির মন্ত্র দিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরম।”বন্দে মাতরম বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।” সেই সূত্রেই মোদি জানান, “সরকার বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যকে পুনরুদ্ধার করতে চায়।”
তবে লোকসভায় বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। দমদম লোকসভার সাংসদ বলেন, “অন্তত বাবু বলুন।” সঙ্গে সঙ্গে ভুল সংশোধন করেন মোদি। বলেন, “আচ্ছা, বঙ্কিমবাবু বলছি।” সৌগতকে ‘দাদা’ সম্বোধন করে ধন্যবাদও জানান তিনি। খানিক মশকরার ছলে বলেন, “আপনাকেও তো দাদা বলেই সম্বোধন করি।”
কংগ্রেসকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)
এদিনের ভাষণে বন্দে মাতরম প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, “এই গান শক্তির মন্ত্র দিয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে গোটা দেশের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল বন্দে মাতরম। তবে দুর্ভাগ্য, ১৯৩৭ সালে বন্দে মাতরমের গুরুত্বপূর্ণ স্তবক, যা গানটির প্রাণ, সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্দে মাতরমের ওই বিভাজন দেশভাগের বীজ বপন করেছিল।” প্রধানমন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আজকের প্রজন্মের জানা উচিত জাতি গঠনের এই ‘মহামন্ত্র’-এর সঙ্গে কেন এই অবিচার করা হয়েছিল। এই বিভাজনমূলক মানসিকতা এখনও দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ।” প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, “সরকার বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্যকে পুনরুদ্ধার করতে চায়।” এরপর বন্দে মাতরমের ওই ‘বাদ পড়া’ অংশ লোকসভায় পাঠ করেন মোদি।
প্রসঙ্গত, ১৮৭০-এর দশকে বন্দে মাতরম লেখেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামে এই গান সাহস, বীরত্ব ও ঐক্যের গান হয়ে উঠেছিল। এটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) লেখা জনগণমন-কে বেছে নেওয়া হয়।
