Messi Kolkata Chaos
Bengal Liberty Desk, ১৪ ডিসেম্বর, কলকাতা: যুবভারতী স্টেডিয়ামে (Vivekananda Yuba Bharati Krirangan) বেনজির বিশৃঙ্খলার ছবি। ময়দানে এসেও ফুটবলের ভগবানকে কাছ থেকে দর্শন করতে না পারার ক্ষোভ। চেয়ার থেকে বোতল ভাঙা, ব্যানার ছেঁড়া, পুলিশের লাঠিচার্জ সব মিলিয়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় গতকাল, শনিবার যুবভারতী স্টেডিয়াম জুড়ে।
এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।গতকাল, শনিবার মেসির সঙ্গেই হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ (Messi Kolkata Chaos)। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। আজ, রবিবার তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তিনি যে কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেননি। মাঠে কী হয়েছে, সেই দায় তাঁর নয়। রবিবার সকালে বিধাননগর মহকুমা আদালতে দাঁড়িয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে এমনই দাবি করলেন কলকাতায় অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। নিজের মক্কেলের জামিনের আবেদনও করেন আইনজীবী। সরকারি আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করে জানান, মেসির সামনে কে যাবেন, কে যাবেন না তাঁর দায়িত্ব থাকে আয়োজকেরই। এর পরেই শতদ্রুর জামিনের আবেদন খারিজ হয় কোর্টে।শতদ্রুকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালত চত্বরে উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান (Messi Kolkata Chaos)
শতদ্রু দত্তকে আদালতে তোলার সময় আদালতের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। শতদ্রুর গাড়ির সামনে ‘চোর চোর’ স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখান জনতা। লিওনেল মেসির কলকাতার অনুষ্ঠান ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা, ক্ষোভ আর অভিযোগের ঝড় উঠেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই এখন শতদ্রু দত্ত।
কী বললেন শতদ্রুর আইনজীবী? (Satadru Dutta)
এদিন শতদ্রু দত্তর আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার জেরে সাধারণ দর্শকদেরও দোষারোপ করে তিনি বলেন, ‘কে কী বলছে সেটা দেখার কাজ আমার নয়। ইভেন্ট ম্যানেজার আর অর্গানাইজারের কাজ আলাদা। উনি মেসিকে নিয়ে এসেছিলেন। সাধারণ দর্শকদের ব্যর্থতার কারণে ঝামেলা হয়েছে। আমার মক্কেলের কোনও দোষ নেই। নিরাপত্তার কথা যখন উঠছে তখন অনেককে দায়িত্ব নিতে হবে। সাধারণ মানুষ যেভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল, সেটা কাম্য নয়। এখনই কাউকে আমি দোষারোপ করতে পারব না। তদন্ত করে পুলিশ যেটা করবে সেটাই মেনে নিতে হবে। যারা ওখানে ছিল ও মেসিকে ঘিরে রেখেছিল তাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
আইনজীবীর মাধ্যমে শতদ্রু বলেন, “আমার অতীতে যা খ্যাতি ছিল, তা নষ্ট হয়েছে। মেসির সামনে আমার নাম খারাপ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কে দোষ করেছে? আমি কোনও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করিনি।১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত কেন চাওয়া হচ্ছে?”
এদিন সরকারি আইনজীবী ১০টি কারণ দেখিয়ে শতদ্রুকে পুলিশে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানান। প্রমাণ সংগ্রহ, বয়ান নেওয়া-সহ একাধিক কারণে ধৃতকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।
