Ajit Pawar
Bengal Liberty, কলকাতা: বারামতীর (Baramati) আজ মুখ ভার, থমথমে পরিস্থিতি। মহারাষ্ট্রের আকাশ-বাতাস জুড়ে এখন শুধু একটাই ধ্বনি- “অজিতদাদা অমর রহে”। রাস্তার দু’পাশে জনগণের ভিড়, সকলের সাথে এগিয়ে চলেছে মহারাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময়ের উপমুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের (Ajit Pawar) মরদেহবাহী গাড়ি। জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিন। নীরবতার বুক চিরে উঠছে একটাই স্লোগান “অজিত পাওয়ার জিন্দাবাদ”। চোখের জলে ভারী হয়ে আসা বারামতী আজ সাক্ষী থাকল এক জনপ্রিয় নেতার শেষ বিদায়ে (Ajit Pawar)।
শেষযাত্রার শেষমুহূর্তে পথ বদল (Ajit Pawar)
বিপুল ভিড় ও পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষযাত্রার রুট পরিবর্তন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শোভাযাত্রা আর শহরের ভিতর দিয়ে যাবে না। কাতেওয়াড়ির বাসভবন (Katewari’s residence) থেকে মরদেহ সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে। সেখানেই বেলা সওয়া ১১টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় অজিত পাওয়ারের শেষকৃত্য।

শেষকৃত্যে উপস্থিত নেতৃত্ববৃন্দ
শেষবিদায়ে উপস্থিত ছিলেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার ও দুই পুত্র পার্থ ও জয়। চোখের জলে তাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছেন এনসিপি প্রধান তথা অজিত পাওয়ারের কাকা শারদ পাওয়ার। ভাইপোর কফিনের সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ রাজনীতিকের মুখে স্পষ্ট জমাট বেদনা। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বারামতীতে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এবং বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। এছাড়া এই তাঁর শেষকৃত্যে শ্রদ্ধা জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ (Devendra Fadnavis) ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde)।
রাজ্যব্যাপী শোক ঘোষণা
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রে তিনদিন শোক পালনের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকবে।বন্ধ থাকবে সরকারি দফতর। এই তিনদিন অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। বাতিল রাজ্য সরকারের সমস্ত অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি।
বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু, চলছে তদন্ত
উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবার সকালে লিয়ারজেট-৪৫ বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ আরও চার জনের মৃত্যু হয় (Plane Crash at Baramati)। যে মৃত্যু মহারাষ্ট্রকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স। তদন্ত শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত বহু প্রশ্নের উত্তর অধরা।
আজ এক অধ্যায়ের অবসান হল বারামতীর বুকে। অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে মহারাষ্ট্র শুধুমাত্র এক নেতাকেই হারাল না, হারাল রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই শূন্যতার প্রতিধ্বনি অনবরত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বারামতীর প্রতিটি কোণায়। জনতার ভিড়ে কেউ নীরবে কাঁদছেন, কেউ কফিনে ফুল ছুঁড়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এক জনপ্রতিনিধির জীবনের শেষ অধ্যায় এভাবেই জনতার হৃদয়ে অমলিন হয়ে থেকে যাবে।


