Union Budget 2026
Bengal Liberty, Kolkata: ভারতকে আগামী দিনে বিশ্বমানের ক্রীড়াশক্তি(Union Budget 2026 sports) হিসেবে গড়ে তুলতেই এ বার বাজেটে খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিল কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানালেন, আগামী এক দশক জুড়ে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যই মূল উদ্দেশ্যে(Union Budget 2026 sports)। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে কিছুটা সাহায্য করবে ‘খেলো ইন্ডিয়া মিশন’।
খেলো ইন্ডিয়া মিশন কী? (Union Budget 2026 sports)
খেলো ইন্ডিয়া মিশন হল কেন্দ্র সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় ক্রীড়া পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য আগামী ১০ বছরে ভারতকে বিশ্বমানের ক্রীড়াশক্তিতে পরিণত করা। এই মিশনের মাধ্যমে গ্রাসরুট স্তর থেকে শুরু করে এলিট পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার সম্পূর্ণ কাঠামো সাজানো হবে।

খেলো ইন্ডিয়া মিশনের আওতায় কী কী থাকছে? (Union Budget 2026 sports)
১) খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সার্বিক উন্নয়ন
এই মিশনের আওতায় অ্যাথলিটদের(Union Budget 2026 sports)(Union Budget 2026 sports) পাশাপাশি কোচ, ফিজিয়োথেরাপিস্ট, ট্রেনার, নিউট্রিশনিস্ট ও স্পোর্টস সায়েন্স বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক কোচিং পদ্ধতি চালু করা হবে।
২) গ্রাসরুট থেকে এলিট স্তর পর্যন্ত ট্রেনিং সেন্টার
গ্রাম, ব্লক, জেলা ও রাজ্য স্তরে নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে আধুনিক ট্রেনিং সেন্টার তৈরি করা হবে। এর ফলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা ছোট বয়স থেকেই সঠিক প্রশিক্ষণ পেয়ে ধাপে ধাপে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছতে পারবেন।

৩) ক্রীড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার
পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস, ইনজুরি প্রিভেনশন, ফিটনেস ট্র্যাকিং এবং ডাটা-ভিত্তিক ট্রেনিংয়ের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে এবং চোটের ঝুঁকি কমবে।
৪) দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা ও লিগ আয়োজন
ক্রীড়া সংস্কৃতিকে আরও(Union Budget 2026 sports) জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও লিগ চালু করা হবে। স্কুল, কলেজ ও রাজ্য স্তরে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ম্যাচ এক্সপোজার বাড়ানো হবে।
৫) আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামো
বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্যে আধুনিক স্টেডিয়াম, ইনডোর অ্যারিনা, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি এবং স্পোর্টস হাব গড়ে তোলা হবে। এতে ভারত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
৬) দেশীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্পের উন্নয়ন
‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় উচ্চমানের অথচ কম দামের ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেওয়া হবে। এতে দেশীয় স্টার্টআপ ও SME-গুলি উপকৃত হবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে।
৭) ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ইভেন্টের প্রস্তুতি
২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন এবং ২০৩৬ অলিম্পিক্সের বিডের প্রস্তুতির জন্য ক্রীড়াক্ষেত্রকে বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভারতকে বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেওয়াই এই মিশনের লক্ষ্য।

কেন ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এতটা প্রয়োজনীয়? (Union Budget 2026 sports)
ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সঠিক পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ঘাটতি। বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় সুযোগের অভাবে মাঝপথেই হটে যান। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ মিশনের মাধ্যমে এই ফাঁকটাই পূরণ করতে চাইছে কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং ভারতের ক্রীড়া ভবিষ্যৎ গড়ার একটি প্রয়োজনীয় ভিত্তি।
