Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh
সীমান্তে সিঁদুরে মেঘ, বাংলাদেশে জামাতের উত্থান, পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তার প্রশ্নে এক্স হ্যান্ডলে সরব শুভেন্দু (Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh)

Bengal Liberty Desk, ১৫ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে BNP বড় জয় পেলেও, নেপথ্যে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী (Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh)। ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন জয়ের নতুন নজির গড়েছে এই কট্টরপন্থী দল ‘জামাত’।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতেই জামাতের জয়ের হার বেশি। দক্ষিণবঙ্গ লাগোয়া সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহের ‘পুরনো ঘাঁটি’র পাশাপাশি মধ্যবঙ্গ ঘেঁষা মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা এমনকি, উত্তরবঙ্গ লাগোয়া রংপুর ডিভিশনেও ভাল ফল করেছে জামাত ও তার সহযোগীরা।
এক্স হ্যান্ডল পোস্টে সরব শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh)
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামাত সমর্থিত প্রার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এবং খুলনার মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফলের আবহে এবার এই নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সমগ্র বিশ্ব যখন ঢাকার শাসন পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে, তখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে এক গুরুতর রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬৮টি আসনে জামাত এ ইসলামী জয়লাভ করেছে, যা সাতক্ষীরা থেকে রংপুর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার বিপরীতে… pic.twitter.com/MCas0VuhuF
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) February 15, 2026
এক্স হ্যান্ডলে বিরোধী দলনেতা লেখেন, “সমগ্র বিশ্ব যখন ঢাকার শাসন পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে, তখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে এক গুরুতর রাজনৈতিক সংহতি গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নির্বাচনে সীমান্তবর্তী ৬৮টি আসনে জামাত এ ইসলামী জয়লাভ করেছে, যা সাতক্ষীরা থেকে রংপুর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকার বিপরীতে অবস্থিত। শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগের কৌশলগত জীবনরেখা। এই অঞ্চলজুড়ে কোনও আদর্শিক সংহতি তৈরি হলে তা অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা এবং শক্তিশালী সীমান্ত পরিকাঠামোর দাবি রাখে।”

সীমান্তবর্তী শক্তিকেন্দ্র ও নিরাপত্তার ঝুঁকি! (Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh)
বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, সাতক্ষীরার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় জামায়াত ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এই অঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও বসিরহাট সংলগ্ন হওয়ায় বিএসএফ (BSF) এবং অন্যান্য সংস্থা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছে (Suvendu on Jamaat-e-Islami Bangladesh)। গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামায়াতের এই রাজনৈতিক উত্থান কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং এর ফলে সীমান্তে চোরাচালান, জাল নোটের কারবার এবং উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে।
সেই আবহে বিরোধী দলনেতার এক্স পোস্টে দাবি, ভারতীয় অংশে তৃণমূল-কংগ্রেসের সরকার সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে বারবার পূর্ণ সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি কলকাতা হাই কোর্টও রাজ্য সরকারকে সীমান্ত বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল এবং হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিলম্ব হওয়া উচিত নয়। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজন-
১। বিএসএফের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা।
২। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা।
৩। অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি।
৪। ভোটব্যাংক রাজনীতি নয়, নিরাপত্তা কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, শুধুমাত্র বিজেপি সরকার, অর্থাৎ “ডবল ইঞ্জিন” সরকারই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারে। ২০২৬ সালে অন্য কোনও ফলাফল এবং সীমান্তের ওপারে উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের উত্থান অবৈধ অনুপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করবে এবং তথাকথিত “বৃহত্তর বাংলাদেশ”এর ধারণাকে শক্তিশালী করবে। পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তাই ভারতের নিরাপত্তা বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
