Mamata Banerjee vs Moloy Ghatak
Bengal Liberty Desk:
পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে আবারও সামনে এল অন্দরকলহের ইঙ্গিত(Mamata Banerjee vs Moloy Ghatak)। এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। সূত্রের খবর, সাংগঠনিক কাজে দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা এবং একাধিক প্রশাসনিক বিষয়ে অসন্তোষের জেরেই আইন দফতরের দায়িত্ব তাঁর হাত থেকে সরিয়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা, দলের ভেতরেই কি বাড়ছে মতভেদ?

আইন দফতর সরল মলয় ঘটকের হাত থেকে, দায়িত্ব নিলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee vs Moloy Ghatak
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের আইন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন মলয় ঘটক। কিন্তু সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই গুরুত্বপূর্ণ দফতরটি আর তাঁর অধীনে থাকছে না। এখন থেকে আইন দফতরের যাবতীয় কাজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই পরিচালিত হবে। দলের অন্দরের একাংশের দাবি, সংগঠনের কাজে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন না মলয় ঘটক। এমনকি বার কাউন্সিলের ভোটের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি, দলের ভেতরেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে, কিছু বিষয়ে তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ নেই, তবুও রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই নয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও এই দূরত্বের ইঙ্গিত মিলেছে। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে কিছুক্ষণ থাকার পরেই সেখান থেকে চলে যান মলয় ঘটক। তারপর আর তাঁকে সেই কর্মসূচিতে দেখা যায়নি বলেই দাবি দলের একাংশের।

তথ্যপ্রযুক্তি দফতরও নিলেন মুখ্যমন্ত্রী
মন্ত্রিসভার এই রদবদলের মধ্যেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরের দায়িত্বও এখন থেকে সরাসরি তাঁর হাতেই থাকবে। এর আগে এই দফতরের দায়িত্বে ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। সম্প্রতি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একসঙ্গে সাংসদ পদ এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রিত্ব বা দফতরের দায়িত্বে থাকতে পারেন না। সেই কারণেই তাঁকে ওই দফতরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি, এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের কাজকর্ম এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের তত্ত্বাবধানে চলবে। নবান্নের দাবি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিধানসভা ভোটের আগে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কড়া বার্তা দিলেন দলের নেত্রী মমতা। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে নতুন কোনও পরিবর্তন আসে কি না এবং ভবিষ্যতে মলয় ঘটকের ভূমিকা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়।

