Gen Z politics Nepal election
Bengal liberty desk, ১০ মার্চ :
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপালের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের প্রবল হাওয়া (Gen Z politics Nepal election)। দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে উল্কার গতিতে উত্থান ঘটছে এক তরুণ তুর্কির—যিনি একাধারে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, জনপ্রিয় র্যাপার এবং কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র। তিনি বলেন্দ্র শাহ, নেপালিদের কাছে যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই পরিচিত। প্রাথমিক ভোট গণনার পূর্বাভাস বলছে, নেপালের জেন-জি (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের বিপুল সমর্থনে বলেন্দ্র এখন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে।

ব্যালেট বক্সে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের প্রতিফলন (Gen Z politics Nepal election)
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে যে জেন-জি গণবিক্ষোভ কেপি শর্মা অলির সরকারকে গদিচ্যুত করেছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP) এককভাবে অধিকাংশ আসনে এগিয়ে রয়েছে। প্রত্যক্ষ নির্বাচন হওয়া ১৬৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ১১৯টিতেই লিড নিচ্ছে এই নতুন দল। যেখানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলির দল সিপিএন (ইউএমএল) মাত্র ৬টি এবং নেপালি কংগ্রেস মাত্র ৮টি আসনে এগিয়ে। ঝাপা-৫ আসনে খোদ ওলিকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে ৬ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলেন্দ্র।

র্যাপার থেকে জননেতা: এক রূপকথার উত্থান
৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্রর রাজনীতিতে আসা অনেকটা রূপকথার মতো।
পেশাগত জীবন: তিনি একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। ভারতের কর্ণাটকের বিশ্বেশ্বরাইয়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
র্যাপ ক্যারিয়ার: ২০১২ সালে ‘সড়ক বালক’ গানের মাধ্যমে নেফহপ (Nefhop) দুনিয়ায় পা রাখেন। তাঁর ‘বলিদান’ বা ‘নেপাল হাস’ গানগুলো দুর্নীতি ও অব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
সাফল্যের শুরু: ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে বাঘা বাঘা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি।
বিতর্ক ও জাতীয়তাবাদ: ভারত-নেপাল সম্পর্কের নতুন চ্যালেঞ্জ?
বলেন্দ্র শাহ তাঁর স্পষ্টবক্তা ইমেজের জন্য পরিচিত। ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়লেও তাঁর কিছু পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে:
১. সিনেমা বিতর্ক: ‘আদিপুরুষ’ সিনেমায় সীতাকে ‘ভারতের কন্যা’ বলায় কাঠমান্ডুতে ভারতীয় সিনেমা নিষিদ্ধ করার ডাক দিয়েছিলেন তিনি।
২. মানচিত্র বিতর্ক: নিজের দপ্তরে ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র রেখেছিলেন তিনি, যা ছিল ভারতের ‘অখণ্ড ভারত’ ম্যুরালের এক প্রতীকী প্রতিবাদ
আরএসপি-র সাথে চুক্তি: লক্ষ্য এবার পিএম হাউজ
নির্দল হিসেবে নয়, এবার বলেন্দ্র লড়াই করছেন রবি লামিছানের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে। সূত্রের খবর, দল ক্ষমতায় এলে বলেন্দ্র শাহই হবেন নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী—এমনই এক সমঝোতা হয়েছে দলের ভেতর। টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পাওয়া এই তরুণ নেতা এখন নেপালি জনগণের কাছে স্বচ্ছতা ও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতির প্রতীক।
নেপালের এই নির্বাচনের ফলাফল যদি প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী শেষ হয়, তবে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদল। পুরনো আদর্শবাদী রাজনীতির বদলে নেপাল এখন আস্থা রাখছে ‘পারফরম্যান্স’ এবং ‘তারুণ্য’-এর ওপর। বলেন্দ্র শাহর এই জয় জয়কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুনিয়ার চাবি সত্যিই এখন জেন-জি-র হাতে।
