Model Code of Conduct
Bengal Liberty , kolkata :
নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (Model Code of Conduct) (এমসিসি) অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব এবং মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন।
আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি রাজ্যে উপনির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশন জানিয়েছে।

নির্বাচনে কড়া নজর নির্বাচন কমিশনের Model Code of Conduct
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের দিন ঘোষণা করার পর(এমসিসি) সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিব এবং প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকদের অবিলম্বে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে এমন কোনও ঘোষণা বা নীতি গ্রহণ করা যাবে না, যা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই আচরণবিধি শুধু রাজ্য সরকার নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণাতেও প্রযোজ্য হবে।

সরকারি সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
এছাড়াও কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি, জনসাধারণের ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে থাকা দেয়াললেখা, পোস্টার, ব্যানার বা অন্য কোনও ধরনের প্রচার সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির দ্বারা সরকারি গাড়ি বা সরকারি আবাসনের অপব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কোষাগারের খরচে বিজ্ঞাপন দেওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ভোটের সময় সরকারি অর্থে কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে না । কোনো ব্যক্তির বাড়ির সামনে বিক্ষোভ বা পিকেটিং করা যাবে না এবং মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো জমি, ভবন বা দেওয়াল রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে।হেল্পলাইন নম্বর ১৯৫০ চালু রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক দলের সদস্যরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়াও ECINET প্ল্যাটফর্মের C-Vigil অ্যাপ ব্যবহার করেও অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ৫,১৭৩টির বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৫,২০০টির বেশি স্ট্যাটিক সারভেইল্যান্স টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সভা মিছিল বা প্রচারের আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আগাম জানাতে হবে এবং লাউডস্পিকার বা অন্যান্য ব্যবস্থার জন্য অনুমতি নেওয়া বাঞ্চনীয়। রাজ্যের নেতা মন্ত্রীগণ সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারকে মিশিয়ে ফেলতে পারবেন না এবং প্রচারের কাজে সরকারি যন্ত্রপাতি, যানবাহন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
দেশজুড়ে চালু আচরণবিধি
তবে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সর্বস্তরের সরকারি আধিকারিকদের নিরপেক্ষভাবে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সভা, মিছিল ও ভোটগ্রহণের সময় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ECINET প্ল্যাটফর্মে SUVIDHA মডিউল চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলি মাঠ বা হেলিপ্যাড ব্যবহারের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবে, যা ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বরাদ্দ করা হবে।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়। কোনও ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
