Suvendu Adhikari at Bhawanipore
Bengal Liberty, Kolkata:
বাংলার বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর(Suvendu Adhikari at Bhawanipore) । একদিকে নিজের ঘরের মাঠে আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে থাবা বসাতে মরিয়া বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাত থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় বিজেপির আগ্রাসী প্রচার এবং তার পাল্টা তৃণমূলের রণকৌশল নির্ধারণ— সব মিলিয়ে ভবানীপুর এখন ফুটন্ত কড়াই।

মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় বিজেপির পোস্টার যুদ্ধ (Suvendu Adhikari at Bhawanipore)
বুধবার রাত থেকেই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল ভবানীপুরের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এবং হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট, যা মূলত মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও তাঁর পরিবারের এলাকা হিসেবে পরিচিত, সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে পোস্টার ও ফ্লেক্স লাগাতে শুরু করে বিজেপি। দলের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি শুভেন্দু লড়ছেন মমতার বিরুদ্ধেও।
দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি নেতৃত্বের এই ‘আগ্রাসী’ মেজাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য স্পষ্ট— খোদ তৃণমূল নেত্রীর ওয়ার্ডে লড়াই পৌঁছে দিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা। এই ওয়ার্ডে এর আগেও বিজেপি ভালো ফল করেছিল, সেই ধারাকে এবার জয়ের ব্যবধানে রূপান্তর করতে চাইছে তারা।

তৃণমূলের পাল্টা চাল: জয়হিন্দ ভবনে জরুরি বৈঠক (Suvendu Adhikari at Bhawanipore)
বিজেপির এই আগাম প্রচারে বিন্দুমাত্র জমি ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরের জয়হিন্দ ভবনে একটি বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠক তলব করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সী, স্থানীয় কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রচারকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূলের কৌশল হলো— পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা এবং বিজেপির ‘বহিরাগত’ তকমাকে সামনে আনা। কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তাঁর নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।

পরিসংখ্যানের লড়াই: পাল্লা ভারী কার? (Suvendu Adhikari at Bhawanipore)
ভবানীপুরের এই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের অঙ্ক অত্যন্ত জটিল। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়:
• ২০১৪ লোকসভা: এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রায় ৪৯৬ ভোটে পিছিয়ে ছিল।
• ২০১৯ লোকসভা: বিজেপি এখানে লিড বজায় রেখেছিল।
• ২০২৪ লোকসভা: তৃণমূল ঘুরে দাঁড়ায় এবং প্রায় ২৩০ ভোটের ব্যবধানে লিড পায়।
বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলা সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিকের দাবি, “এবার আমরা ইতিহাস বদলাতে চাই। মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডে শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, ২০২৪-এর লিড প্রমাণ করে দেয় যে সাধারণ মানুষ মমতার সঙ্গেই আছেন।

👉 https://t.co/b1eDFRDdGO
IPAC vs ED: আইপ্যাক মামলায় তীব্র বাদানুবাদ | Mamata Banerjee | Bengal Liberty
Mamata Banerjee Enforcement Directorate#IPAC #ED #EnforcementDirectorate #MamataBanerjee #BengalLiberty pic.twitter.com/FYpBW9Q9Gh— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 18, 2026
কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই লড়াই? (Suvendu Adhikari at Bhawanipore)
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, এটি একটি সম্মানের লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছিলেন, যদিও পরে উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে বিপুল ভোটে জেতেন। এবার সরাসরি দুই হেভিওয়েটের লড়াই ভবানীপুরকে কুরুক্ষেত্রের চেহারা দিয়েছে। বিজেপির লক্ষ্য হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের ওয়ার্ডে আটকে রাখা, যাতে তিনি রাজ্যের অন্য প্রান্তের প্রচারে কম সময় দিতে পারেন।
পাল্টা হিসেবে তৃণমূল চাইছে বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে শুভেন্দুকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে। দু’পক্ষের এই ঠাণ্ডা লড়াই এখন কেবল সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে অলিগলির দেওয়ালে।
৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে এখন কেবল স্লোগান আর পাল্টা স্লোগানের লড়াই। তৃণমূলের ঘরের মধ্যে ঢুকে বিজেপির এই প্রচার কতখানি ব্যালট বক্সে প্রভাব ফেলবে, তা সময় বলবে। তবে আপাতত ভবানীপুর যে আসন্ন নির্বাচনের ‘এপিসেন্টার’ হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আরও পড়ুন :
IPS Transfer: ভোটের আগে পুলিশে বড়সড় রদবদল, ১৫ আইপিএসকে ভিন রাজ্যে পাঠাল নির্বাচন কমিশন
