Bhabanipur Returning Officer Removal
Bengal Liberty Desk, ২৭ মার্চ, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ১৫৯-ভবানীপুর নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। ওই কেন্দ্রের নবনিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারের (RO) নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল কমিশন। এই মর্মে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের জন্য তিন আধিকারিকের নামের প্যানেল তলব করেছে কমিশন (Bhabanipur Returning Officer Removal)।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিকল্প তিন জনের নাম চেয়ে পাঠানো হয়েছে। যদিও, এই বিষয়ে সিইও দফতরে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা জানিয়েছে, ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
কমিশনের চিঠিতে কী বার্তা (Bhabanipur Returning Officer Removal)?

নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে যে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল, কমিশন তা খতিয়ে দেখেছে।
বর্তমান বিতর্কিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্য তিনজন যোগ্য আধিকারিকের নামের একটি প্যানেল তৈরি করে পাঠাতে বলা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে।
কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ২৬ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৫টার মধ্যেই এই নামের তালিকা কমিশনের দফতরে জমা দিতে বলা হয়। ওই প্যানেল থেকেই নতুন কাউকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ ঘিরে তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। ওই কেন্দ্রের নবনিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়ের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) একটি কড়া চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন।
কী অভিযোগ (Bhabanipur Returning Officer Removal)?

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে সরাসরি সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরজিৎ রায়ের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের সম্ভাবনা থাকায় তাঁকে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে রাখা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ব্যাহত করবে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৮এ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত অফিসারদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং বহিঃপ্রভাব মুক্ত থাকা আবশ্যিক। তৃণমূলের দাবি, সুরাজিত রায়ের নিয়োগ এই আইনি নীতির পরিপন্থী।
আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন (Bhabanipur Returning Officer Removal)!
ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, কোনও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এমন আধিকারিককে ওই কেন্দ্রে বসানো হয়েছে, যা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির (MCC) সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযোগের মূলে ‘নন্দীগ্রাম কানেকশন’ (Bhabanipur Returning Officer Removal)-

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনটি প্রধান যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে-
১. শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠতা: তৃণমূলের দাবি, সুরাজিত রায় ইতিপূর্বে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও (BDO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। যেহেতু শুভেন্দু অধিকারী নিজে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন, তাই সুরজিৎ রায়ের অধীনে ভবানীপুরে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা প্রকাশ করে শাসকদল।
২. অস্বাভাবিক নিয়োগ ও পদমর্যাদা: বর্তমানে সুরজিৎ রায় ‘অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ ল্যান্ড রেকর্ডস’ পদে রয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁর বর্তমান সিনিয়রিটি অনুযায়ী এই পদে নিয়োগ এবং নির্বাচনের সময় তাঁকে ভবানীপুরের মতো হেভিওয়েট কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সাধারণত এই পদগুলি সরকারের যুগ্ম সচিব (Joint Secretary) পদমর্যাদার অফিসাররা সামলান।
৩. সংবিধানের ৩২৪ ধারা লঙ্ঘন: ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে লিখেছেন যে, পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিক নিয়োগ করে সংবিধানের ৩২৪ ধারাকে লঙ্ঘন করছে কমিশন, যা জনগণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করছে।
তৃণমূলের দাবিদাওয়া-
কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চারটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছে,
১. ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সুরজিৎ রায়ের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা বজায় রাখতে তাঁকে সমস্ত রকম নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
৩. ওই কেন্দ্রে কোনও প্রবীণ, নিরপেক্ষ এবং অরাজনৈতিক ভাবমূর্তির আধিকারিককে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।
৪. অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭৩ জন রিটার্নিং অফিসার বদল ও নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ

গত সোমবার রাতে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (RO) বদলি করার কমিশনের সিদ্ধান্তকেও একহাত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন এখন পুরোপুরি বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে। দলনেত্রীর কথায়, “কেন নন্দীগ্রামের বিডিও-কে হঠাৎ ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে আনা হলো? কেন এই রদবদল?”
আরও পড়ুন-
Bhabanipur Returning Officer: ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকে সরানোর দাবি! কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের
Returning Officers removed WB: ভোটের মুখে কমিশনের মেগা রদবদল! বাংলা থেকে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে একযোগে অপসারণ, তালিকায় মমতার ভবানীপুরও
মমতার অভিযোগের পাল্টা মন্তব্য শুভেন্দুর-
মমতার মন্তব্য প্রসঙ্গে পাল্টা উত্তর দেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর কথায়, ইলেকশন কমিশন RO চেঞ্জ করেছে। তার মধ্যে ৮০ শতাংশই ২০১১ সালের থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে কাজ করেছে। এমন RO-র নাম আমি বলে দিতে পারি যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের PS হিসেবে কাজ করেছে। মমতার এতো ভয় কেন? নিজের বাড়ি, নিজের এলাকা, ৪০ বছর ধরে যেখানে রাজনীতি করেছে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।
অবশেষে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের এই চিঠির প্রেক্ষিতে সুরজিৎ রায়কে সরিয়ে দিল।
