Sujapur Malda Violence
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
মালদহের সুজাপুরের সাম্প্রতিক অশান্তি ঘিরে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য Sujapur Malda Violence। অভিযোগ, এলাকায় কোনও রাস্তা অবরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ নাকি যোগাযোগ করত স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মোফাক্কারুল ইসলাম-এর সঙ্গে। এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন সাধারণ ব্যক্তি কীভাবে প্রশাসনের সমান্তরাল প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন?
মালদহের সুজাপুরে SIR সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও ও প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় মোফাক্কারুল ইসলামের নাম সামনে আসে। তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে এই ঘটনার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে দাবি করে।

গ্রেফতার মোফাক্কারুল ইসলাম Sujapur Malda Violence
ঘটনার পর জেলায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয় এবং কয়েক দফায় বহু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যেই পালানোর চেষ্টা করার সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কারুল ইসলামকে।

ভাইরাল অডিও ক্লিপ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুজাপুর ও আশপাশের এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ, এলাকায় কোনও বিক্ষোভ বা রাস্তা অবরোধ হলে তা তুলতে অনেক সময় প্রশাসন তাঁর সাহায্য নিত। ভাইরাল একটি অডিও ক্লিপে শোনা গেছে, মালদার যদুপুরে অবরোধ তোলার জন্য মোফাক্কারুলকে অনুরোধ করছেন এক পুলিশকর্মীই। সেখানে পুলিশকর্মীকে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যালো, মোফাক্কারুল সাহেব আছেন? বলছি, সুজাপুরে যেটুকু মিটমাট হল, এবার যদুপুরের লোকজনের আপনার ওপর অগাধ বিশ্বাস। ওঁরা আপনার কথা শোনার পরই রাস্তা অবরোধ তুলবেন। একটু দয়া করে কথা বলে নিন ওঁদের সঙ্গে’। মোফাক্কারুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘মোবাইলটা মাইকে ধরেন, আমি বলে দিচ্ছি। আমি মোফাক্কারুল ইসলাম বলছি। ৪ দিনের মধ্যে ওনারা যদি সব ঠিকঠাক না করে, তাহলে আবার হবে। তোমরা এখন ছেড়ে দাও’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে এক মঞ্চে
২০১৬ সালে এই মোফাক্কারুলকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বিধানসভা ভোটের আগে এক তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে একমঞ্চে দেখা যায়। আবার ২০২১ সালে মিম-এর প্রার্থীও হয়েছিলেন মোফাক্কারুল।
রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিরোধীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ও স্থানীয় সংগঠনগত শক্তির জোরেই মোফাক্কারুল এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। তবে শাসকদল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কেন একজন স্থানীয় ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হবে? সুজাপুরের এই প্রভাবশালী ব্যক্তির উত্থানের পিছনে কার মদত রয়েছে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। এখন প্রশ্ন একটাই মোফাক্কারুলের মাথায় কার হাত?

