I-PAC director arrest
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গে ভোট শুরু হতে মাত্র আর ১০ দিন বাকি। তার আগে বড় পদক্ষেপ নিল ইডি (IPAC director arrest)। রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের (IPAC) অন্যতম ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে দিল্লিতে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কয়লা পাচার সংক্রান্ত মানি-লন্ডারিং মামলায় দীর্ঘ জেরার পর এই গ্রেফতার বলে জানিয়েছে ইডি।

কীভাবে গ্রেফতার? IPAC director arrest
সোমবার সকালে ইডির দিল্লির সদর দপ্তরে ভিনেশকে তলব করা হয়েছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের রাতে Prevention of Money Laundering Act (PMLA)-এর আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য ও ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তল্লাশির পর ভিনেশ চান্ডেলকে সমন পাঠিয়ে দিল্লিতে ইডির দফতরে ডাকা হয়। সেখানে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ইডির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে আদালতে তোলা হলে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ সিবিআই বিশেষ আদালত তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর করে, যাতে ইডি আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এর আগে ২ এপ্রিল তাঁর দিল্লির বাসভবনেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

কী অভিযোগে গ্রেফতার?
ইডির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়লা পাচার থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরিয়ে মানি-লন্ডারিং করা হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে ভিনেশ চান্ডেলের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক শেল কোম্পানি ও হাওলা নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের খনি অঞ্চল থেকে কয়লা চুরি ও পাচারের অভিযোগে সেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। এর আগেই তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তল্লাশিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার হয়েছে, যা মানি-লন্ডারিংয়ের সম্ভাব্য লেনদেন সম্পর্কে নতুন সূত্র দিয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই মামলায় আরও কারা যুক্ত থাকতে পারেন তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি ও গ্রেফতারি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
আরও পড়ুন – আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেপ্তারি ঘিরে কেন্দ্র ও কমিশনকে নিশানা করে অভিষেকের “ভয়ের রাজনীতি” তোপ
ভয়ে কাঁপুনি তৃণমূলে?
এই গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) লেখেন, “বাংলার নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে আইপ্যাক-কর্তার গ্রেফতারি কেবল উদ্বেগজনকই নয়, এটি নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর ধারণাকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।” অভিষেকের অভিযোগ, যারা বিরোধীদের হয়ে কাজ করছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বেছে বেছে তাদেরই নিশানা করা হচ্ছে। একে ‘গণতন্ত্র নয়, বরং স্রেফ ভয়ভীতি প্রদর্শন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এই গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই গ্রেফতার পর তৃণমূল কংগ্রেসে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। পূর্বে বিরোধীরা বারবার দাবি করেছে যে, অভিষেক ব্যানার্জির নামও তদন্তে আসা উচিত। তারা অভিযোগ করেছে, এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও যোগ থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনমুখী পরিস্থিতিতে এই গ্রেফতারি নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভোটের ফলে কোনো প্রভাব ফেলবে? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
