Bhutan Nepal Bangladesh Border Close
Bengal Liberty, ২০ এপ্রিল :
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে মহারণ (Bhutan Nepal Bangladesh Border Close)। আর তার আগেই অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন ভোট সুনিশ্চিত করতে কার্যত নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন । সোমবার বিকেল গড়ালেই ভিন রাজ্য ও বিদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে বাংলা! ভুটান, নেপাল, বাংলাদেশ সহ সমস্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং অসম, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সীমানায় রীতিমতো লৌহকপাট ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। অনুপ্রবেশ ও অশান্তি এড়াতে সমস্ত সীমান্তে জারি হয়েছে চরম সতর্কতা ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় (Bhutan Nepal Bangladesh Border Close)।

অবরুদ্ধ ৪৪ কিলোমিটার (Bhutan Nepal Bangladesh Border Close)
কমিশনের কড়া নির্দেশিকা বলছে, সোমবার বিকেল ৫টা বাজলেই নিশ্ছিদ্র করা হবে সীমান্ত। ২৩ এপ্রিল, অর্থাৎ ভোটের দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জারি থাকবে এই কার্ফু। ভুটানের ফুন্টশোলিং, সামতসে থেকে শুরু করে লামোইজিংখা রুট, প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ হতে চলেছে সাধারণের যাতায়াত এবং সমস্ত রকম বাণিজ্যিক লেনদেন। কেবল জীবনদায়ী চিকিৎসা বা পচনশীল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বৈধ নথির ভিত্তিতে মিলবে ছাড়পত্র। এমনকি ভুটান থেকে স্বদেশে ফেরা ভারতীয় বা পর্যটকদের ক্ষেত্রেও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের কড়া নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই দুষ্কৃতীরা সাধারণের ছদ্মবেশে রাজ্যে প্রবেশ করতে না পারে।

আকাশে উড়ছে ‘নাইট ভিশন ড্রোন’ (Bhutan Nepal Bangladesh Border Close)
পড়শি রাজ্যের মাটি বা দুষ্কৃতীদের অনুপ্রবেশ ও ভোট লুঠের ব্লু-প্রিন্ট বানচাল করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। এই চক্রান্ত রুখতে কার্যত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র SSB এবং বিশাল আধা-সামরিক বাহিনী। এখানেই শেষ নয়, কড়া নাকা চেকিংয়ের পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। রাতের অন্ধকারেও যাতে এক মাছিও গলতে না পারে, তার জন্য ‘নাইট ভিশন ড্রোন’-এর শ্যেনদৃষ্টিতে স্ক্যান করা হচ্ছে সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি।

সাঁড়াশি ধরপাকড়ের নির্দেশ (Bhutan Nepal Bangladesh Border Close)
বহিরাগত অনুপ্রবেশ আটকানোর পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাতেও বিন্দুমাত্র ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ নির্বাচন সদন। যাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলছে, তাদের অবিলম্বে গারদে পোরার কড়া ফরমান দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারে, এমন সন্দেহভাজনদেরও দ্রুত চিহ্নিত করে আটকের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের মধ্যে ৫৪টি সীমান্ত সংলগ্ন কেন্দ্রই এখন চরম স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত। এই কেন্দ্রগুলিতে কার্যত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদর মুড়িয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা।
