Kalyan Banerjee
Bengal Liberty, ১১ জুন :
অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যে’ সরে দাঁড়ালেন মমতার ছায়া সঙ্গী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এই মুহূর্তে অভিষেকের গলার ফাঁস সই জাল কাণ্ড। তারই মধ্যে এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে লড়ার কথা থাকলেও, শুনানি শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ ও বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন অয়ন ভট্টাচার্য। মামলা থেকে শুধুমাত্র কল্যাণ নন, কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য জুনিয়র আইনজীবীরাও সরে দাঁড়িয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য ও রাগ, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন “পশ্চিমবঙ্গের নম্বর ওয়ান সফ্ট পলিটিশিয়ান” বলে নিজেকে আখ্যায়িত করা কল্যাণ। তাহলে কি মমতার দলের আরও একটা গুঁটি কাটতে চলেছে? সিআইডি আসাকালীন সময়ে মমতার বাড়ি পাহারা দিয়েও লাভ হল না কল্যাণের (Kalyan Banerjee)?

‘হয় অভিষেককে রাখুন নয় আমাকে’ কল্যাণ (Kalyan Banerjee)
শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ জানান, ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বুধবার রাতে সোয়া বারোটার সময় তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানানো হয়, সই জাল মামলায় জুনিয়র আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করবেন। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রবীণ আইনজীবী। তাঁর কথায়, “আমি এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। এই উদ্ধত মনোভাব মেনে নেব না। কাল রাতে আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রের জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি বলেই দিয়েছি, ওর সঙ্গে আমি আর থাকব না।” একই সঙ্গে কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্য, “ওর জন্যই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে!” কল্যাণের সংযোজন, “আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।”
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক। তৃণমূলের ভাঙন সর্বসম্মুখে স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির দায় চাপানো হচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠন পরিচালনার উপর। এই আবহে দলের অন্দরে যখন অসন্তোষ ক্রমশ বিস্ফোরক আকার নিচ্ছে, তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে অটলভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই তোপ দেগে দলনেত্রীর প্রতি নিজের আনুগত্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার সেই কল্যাণই অভিষেকের আচরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে কার্যত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটালেন। দলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, অভিষেকের ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ ও ‘একক সিদ্ধান্তের রাজনীতি’ মেনে নিতে পারছেন না বর্ষীয়ান এই নেতা। এবার প্রশ্ন, বিদ্রোহী সাংসদদের দলে আরও একটা নাম যুক্ত হতে চলেছে?


