Hargobinda Das
Bengal Liberty, ২৩ এপ্রিল :
গত বছরের ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে হওয়া হিংসায় স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর (Hargobinda Das) এবার ভোটের ময়দানে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবি তুললেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী (Hargobinda Das)। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপির আমন্ত্রণে ভোট দিতে এসেছি।’

বিজেপির আমন্ত্রণে এসেছি-হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী (Hargobinda Das)
ওয়াকফ হিংসার ক্ষত বুকে নিয়েই ভোট দিলেন চন্দন দাসের মা তথা হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী। এদিন ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতা করেছে। তাই বিজেপির আমন্ত্রণে এসেছি।’ বৃহস্পতিবার ভোট দিয়ে বেরিয়েও তিনি আবারও স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামী আর ছেলে আর ফিরবে না। কিন্তু আমি চাই তাদের হত্যার পূর্ণ বিচার হোক।’ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানান তিনি। ভোটকেন্দ্রগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির জেরে ভোটাররা নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার ফলে ভোট প্রক্রিয়া অনেকটাই শান্তিপূর্ণ হয়েছে।

উল্লেখ্য গত বছরের এপ্রিলে ওয়াকফ আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো পশ্চিমবঙ্গেও বিক্ষোভ দেখা যায়। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং সুন্দরবন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় ১২ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদে ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয় দাস পরিবার। অভিযোগ, বিক্ষোভের মাঝে তৃণমূল আশ্রিত ‘সংখ্যালঘু’ দুষ্কৃতীরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে স্থানীয় ‘হিন্দু’ বাসিন্দা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। পরে এই মামলায় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর আদালত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
