Jhargram
Bengal Liberty, ২৩ এপ্রিল :
গণতন্ত্রের উৎসবের মাঝেই জঙ্গলমহলে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ছবি (Jhargram)। পশ্চিমবঙ্গ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরুর আগেই ঝাড়গ্রামের জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথের সামনে হঠাৎ এসে হাজির হয় ‘রামলাল’। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের পাশেই হাতির উপস্থিতিতে মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে বন দপ্তরের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি অতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে বলাই বাহুল্য এই ঘটনাই আবার সামনে আনল জঙ্গলমহলের মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের বাস্তব চিত্র। ভোটপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসন ও বন দপ্তরের কড়া নজরদারি এবং বিশেষ প্রস্তুতিও এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ (Jhargram)।

মানুষের সঙ্গেই অভ্যস্ত ‘রামলাল’ (Jhargram)
এই প্রথমবার নয় একাধিকবার খবরে এসেছে ‘রামলাল’। অন্যান্য বন্য হাতির তুলনায় ‘রামলাল’-এর স্বভাব বেশ আলাদা। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া ছাড়িয়ে ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ডেও তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। মানুষের দেওয়া খাবারে অভ্যস্ত এই হাতিটি এদিন দুলকি চালে হেঁটে সোজা পৌঁছে যায় ভোটকেন্দ্রের সামনে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির দিকেও কৌতূহলভরে উঁকিঝুঁকি দিতে দেখা যায় তাকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন লোধাশুলি রেঞ্জের বনকর্মীরা। তাঁদের তৎপরতায় হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নির্বিঘ্নেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
Jhargram: ভোটকেন্দ্রে হাতির হানা! | Bengal Liberty#Jhargram #westbengalelection2026 #WestBengalElection #electionnews #BengalLiberty pic.twitter.com/wxpkXMIMki
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) April 23, 2026

ভোটে বন্যপ্রাণের বাধা ঠেকাতে কড়া প্রস্তুতি (Jhargram)
জঙ্গলমহলে মানুষ-বন্যপ্রাণ সংঘাত এড়াতে এবার বাড়তি সতর্কতায় নেমেছে বন দপ্তর। ঝাড়গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভোটপ্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে ১৫ জনের বিশেষ দল ও প্রয়োজনীয় যানবাহন। পাশাপাশি জেলাজুড়ে সক্রিয় রয়েছে ‘এলিফ্যান্ট ট্রেকার্স টিম’ এবং ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত ‘কুইক রেসপন্স টিম’। প্রতিটি বুথে থাকা ভোটকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বনকর্মীদের জরুরি যোগাযোগ নম্বর, যাতে কোনও সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। শুধু ভোটগ্রহণ নয়, ভোট শেষে ইভিএম নিরাপদে স্ট্রং রুমে পৌঁছানো পর্যন্ত নজরদারিতে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ প্রশাসন। সেই কারণে ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর এলাকায় ২৫টি গাড়ি নিয়ে জঙ্গলপথে কড়া টহল চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বনকর্মীরা।
