Kunal Ghosh Post
Bengal Liberty :
মহা সংকটে তৃণমূল! অথচ পাশে নেই কেউ (Kunal Ghosh Post)। শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুতো-ঝাঁটা ও পচা ডিম নিয়ে হামলার ঘটনার পর, সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। অন্য দলের সর্বভারতীয় স্তরের নেতারা এই হামলার প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু দলেরই একাধিক সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর ও অনুগামীরা নীরব। সমাজ মাধ্যমে কুণাল ঘোষ জানালেন, ” ক্ষমতার লোভে যারা এতদিন দল ভাঙিয়ে খেয়েছেন, আজ সুসময়ের সেই ‘দাদা’, ‘বস্’ আর ‘সেলফি’ অনুগামীদের মুখোশ পুরোপুরি খুলে গিয়েছে ।”

“ক্ষমতায় থাকলে বোলচাল অন্য হতো”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর দলের একাংশের এই উদাসীনতা দেখে কটাক্ষের সুরে কুণাল। সামাজিক মাধ্যমে তোপ দাগিয়ে দিয়েছেন, রাহুল গান্ধী এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। অথচ তৃণমূলের বহু সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর ও দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গরা নীরবতা পালন করছে।

‘গা ঢাকা’ তৃণমূলের অধিকাংশের
বিধানসভায় হারের পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতেন ইন্দ্রনীল সেন, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা। কিন্তু পালাবদল ঘটতেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। কেউ ইতিমধ্যেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, নিজেদের বাঁচাতে সম্পূর্ণ গা ঢাকা দিয়েছেন। চরম সঙ্কটের মুখে মমতা একা। শনিবার রাত পর্যন্ত মমতার পাশে দেখা গিয়েছে একমাত্র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ।

অ্যাপোলোর পর বেলভিউতেও জায়গা হলো না অভিষেকের!
আক্রান্ত হওয়ার পর কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল বেলভিউতেও ভর্তি নেওয়া হয়নি অভিষেককে। তার নিত্যদিনের বন্ধু, সঙ্গী, কর্মী কেউ পাশে নেই। নেপথ্যে, দলের অন্দরের খরা স্পষ্ট।
তীব্র প্রতিবাদে সরব কুণাল
সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষের ভাষায় কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন,” অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে অন্য দলের জাতীয়স্তরের নেতাদের পোস্টও দেখলাম। কিন্তু আমাদের দলের বহু সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, পদাধিকারী, প্রাক্তন সরকারি পদাধিকারীদের পোস্ট নজরে পড়ল না। অথচ সরকারটা তৃণমূলের থাকলে এঁদেরই অনেকের বোলচাল অন্যরকম হত। কারা দলের মঞ্চ ভাঙিয়ে নিজের কাজ করে গেল, এখন বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। দাদা, অনুগামী, বস্, ভিডিও, সেলফি- এদের একাংশ কোথায়?”
রাজনৈতিক পরিবর্তনে তৃণমূলের অন্দরে যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, শনিবারের ঘটনায় তা কার্যত দৃশ্যমান সকলের কাছেই। ‘গা ঢাকা’ দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্যমান। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা ব্যানার্জী বর্তমান শাসকদলকে দুষছেন। কিন্তু আদৌ নেপথ্যে শাসকদল জড়িত কিনা, তা নিয়েই জমছে উদ্বেগ!

