PSG Massive Outrage
Bengal Liberty, ৩১ মে, ২০২৬ :গতকাল পুস্কাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে(PSG Massive Outrage) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে নেয় পিএসজি। ম্যাচ ঘিরে গোটা বিশ্বে ছিল ব্যাপক উত্তেজনা ও উন্মাদনা। তবে জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা পিএসজি সমর্থকদের উৎসব মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় অশান্তিতে।
আরো পড়ুন:- IPL Final RCB vs GT : কিং বনাম প্রিন্সের লড়াইয়ের আগেই জমে উঠেছে এবারের আইপিএলের ফাইনাল
ঘটনার সূত্রপাত (PSG Massive Outrage )
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল দেখার জন্য পার্ক দে প্রাঁস স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে ৪০ হাজারেরও বেশি সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। এছাড়াও শঁজ এলিজে-সহ প্যারিসের একাধিক এলাকায় জমায়েত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পিএসজির জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। প্রশাসনের দাবি, রাত ১১টা পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে উৎসবের আনন্দ দ্রুতই আতঙ্কে পরিণত হয়।
শুধু প্যারিসই নয়, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরেও উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনা ঘটে। লিয়োঁ শহরেও ভাঙচুর ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। উন্মত্ত কিছু সমর্থক গাড়িতে লাথি মারতে, ভাঙচুর চালাতে এবং পাথর ছুড়তে শুরু করে। আতঙ্কিত বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়তে থাকেন। প্রথমে লাঠিচার্জ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে কিছু মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, এই অশান্তির পেছনে অভিবাসীদের একটি অংশের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি(PSG Massive Outrage )
গত বছরও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর পিএসজি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এ বছর গোটা ফ্রান্সে ২২ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তবুও হিংসা রোখা সম্ভব হয়নি।

ফলে পুলিশের প্রস্তুতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, অশান্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বেপরোয়া হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল পিএসজির ঐতিহাসিক জয়ের রাত।

