Bengal Liberty, ৪ জুন, ২০২৬ : ফের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নয়া মোড়।(Israel Lebanon Ceasefire) বিভিন্ন সমীকরণকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আঁচ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে; দিন দিন জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। এরই মাঝে ইসরায়েলের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা আপাতত লেবাননে কোনো রকম হামলা চালাবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, এর আগেও একাধিকবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনা। তবে এবার বৈরুতের সামনে কয়েকটি শর্ত রেখেছে তেল আবিব। সেই শর্ত মানলেই কেবল তারা হামলা থেকে বিরত থাকবে বলে ইসরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের ভর্ৎসনা(Israel Lebanon Ceasefire)
সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে মারাত্মক হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ আহত ও ঘরছাড়া হয়েছেন বলে খবর। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি তাঁকে ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলেও ভর্ৎসনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো—লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিশানা করা যাবে না। ফলে ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে ট্রাম্পের কাছে অন্যতম ‘বাধা’ হয়ে উঠেছে এই লেবানন সমস্যা।

ফের শর্তের বেড়াজাল(Israel Lebanon Ceasefire)
যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা মূলত তিনটি প্রধান শর্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব। প্রথম শর্ত হিসেবে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ অবসান দেখতে চায় ইসরায়েল। দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি চান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তৃতীয় শর্ত—ইসরায়েলের দাবি, লিটানি নদী এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে হিজবুল্লাহর সমস্ত কর্মকাণ্ড গুটিয়ে ফেলতে হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এতগুলো কঠিন শর্ত মেনে যুদ্ধবিরতি কি আদৌ কার্যকর ভূমিকা নেবে, নাকি পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ আকার ধারণ করবে? ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আগামী ২২ জুন দুই দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ চরম উদ্বিগ্ন। এরই মধ্যে আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকাশছোঁয়া। তেল ও গ্যাসের দাম প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যেই দিন কাটছে সব শ্রেণির মানুষের। এই যুদ্ধের কি কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি হবে? এখন এই প্রশ্ন নিয়েই প্রহর গুনছে গোটা বিশ্ব।

আরো পড়ুন:- Mamata cyber case: মমতার দেশবিরোধী মন্তব্যে দায়ের হলো মামলা

