ফেরানের স্বপ্নপূরণ
Bengal Liberty
২০১০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ফাইনালে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৬ মিনিটে গোল করেছিলেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা। ওই গোলেই প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। তারপর থেকে তিনটে বিশ্বকাপে ব্যর্থতা (World Cup Champion)। আবার আমেরিকার মাটিতে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন লা রোজা ব্রিগেড। এবার গোলদাতার নাম ফেরান তোরেস। সেবার প্রতিপক্ষ ছিল নেদারল্যান্ড, এবার ছিল মেসির আর্জেন্টিনা। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে তিনি জায়গা পান স্পেনের জাতীয় দলে। বিশ্বকাপ খেলতে চলে আসেন ভারতের মাটিতে।

কলকাতা থেকে বিশ্বজয়ের মঞ্চে
রবিবার বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রবল চাপ নিয়েও ঠান্ডা মাথায় খেলেছেন তোরেস। তবে তাঁর জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালটি তিনি খেলেছিলেন কলকাতার বুকে। ২০১৭ বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা ভালো হয়নি স্প্যানিশ ব্রিগেডের।

২-১ গোলে হারতে হয় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। কিন্তু কামব্যাক কীভাবে করতে হয় সেটা অনূর্ধ্ব ১৭ দলে থেকেই শিখে নিয়েছিলেন তোরেস। গ্রুপ পর্বে বাকি দুই ম্যাচ জেতে স্পেন। নক আউটেও পরপর জিতে ফাইনালে উঠে যান ফেরান তোরেসরা। ততদিনে বিশ্বকাপে দু’টো গোল করে ফেলেছেন তিনি, রয়েছে জোড়া অ্যাসিস্টও। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে কলকাতায় পা রেখেছিলেন তোরেস। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ এগিয়েও গিয়েছিল স্পেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৫-২ বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন তোরেসরা।

জীবনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে আর ভুল হল না স্প্যানিশ তারকার। গোল নষ্টের প্রবণতার অভিযোগে বারবার বিদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটা তোরেস কাজে লাগালেন। নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো দারুণ বল জড়িয়ে দিলেন জালে। বিশ্বকাপ ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা হিসাবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হল ফেরান তোরেসের নাম। ফুটবল বিশ্বের মনে পড়ল, অক্টোবরের এক বিকেলে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকেই শুরু হয়েছিল এই ফেরানের স্বপ্নের উড়ান। এখন নিউ জার্সিতে আর্মাডা বাহিনীর বিশ্বজয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র গোলদাতা তিনি ফাইনাল ম্যাচে। তাই বিশ্বকাপ ফাইনালে ফেরানের হাত ধরে কিছুটা গর্ব করতে পারে আমাদের কলকাতা। সেদিনের যুবভারতীদের খেলা বাচ্চা ছেলেটাই আজ স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচনা করল।

