Kevin Keegan
Bengal Liberty
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শেষ হতেই(Kevin Keegan) নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার, প্রাক্তন অধিনায়ক ও কোচ কেভিন কিগান আর নেই।সোমবার ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘স্টেজ ফোর’ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।কিগানের প্রয়াণে ইংল্যান্ড, লিভারপুল, নিউক্যাসল ইউনাইটেডসহ গোটা ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্কানথর্প থেকে লিভারপুল: কিংবদন্তির উত্থান(Kevin Keegan)
১৯৬৮ সালে স্কানথর্প ইউনাইটেডের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয় কেভিন কিগানের। সেখান থেকেই তাঁর প্রতিভার ঝলক নজর কাড়ে লিভারপুলের। ১৯৭১ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পরই বদলে যায় তাঁর ক্যারিয়ার।লিভারপুলের জার্সিতে ৩২৩ ম্যাচে ১০০টি গোল করেন কিগান। ক্লাবকে তিনি জেতান তিনটি ইংলিশ লিগ শিরোপা, একটি ইউরোপিয়ান কাপ, দুটি উয়েফা কাপ এবং একটি এফএ কাপ। সত্তরের দশকে লিভারপুলের সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন তিনিই।

জার্মানিতে ইতিহাস: টানা দু’বার ব্যালন ডি’অর(Kevin Keegan)
১৯৭৭ সালে ইংল্যান্ড ছেড়ে জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দেন কিগান। সে সময়ে বিদেশে গিয়ে সফল হওয়া ইংরেজ ফুটবলারের সংখ্যা ছিল খুবই কম।কিন্তু হামবুর্গের হয়ে তিনি শুধু বুন্দেসলিগাই জেতেননি; ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে পরপর দু’বছর ইউরোপের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েন। ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম সেখান থেকেই আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে গৌরব(Kevin Keegan)
ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন কেভিন কিগান। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ঝুলিতে ছিল ২১টি গোল। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবেও তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ।

নিউক্যাসলের ‘কিং কেভ’: কোচ হিসেবেও অমলিন(Kevin Keegan)
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করেন কিগান। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবকে নতুন প্রাণ দেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের জন্য নিউক্যাসলের সেই দলটি পরিচিতি পায় ‘দ্য এন্টারটেইনার্স’ নামে।
১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হলেও সেই দল

আজও সমর্থকদের মনে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে(Kevin Keegan)
পরবর্তীকালে ফুলহ্যাম, ইংল্যান্ড জাতীয় দল এবং ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালে শেষবারের মতো নিউক্যাসলে ফিরেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।
শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব(Kevin Keegan)
কিগানের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই লিভারপুল, নিউক্যাসল ইউনাইটেড, হামবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটিসহ একাধিক ক্লাব এবং অসংখ্য সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ফুটবল বিশ্বের জন্য তাঁর প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই কিংবদন্তির বিদায়ে ইংলিশ ফুটবলের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে কেভিন কিগানের নাম চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।

