Argentina
Bengal Liberty
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে(Argentina) আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বসেরা হলো ‘লা রোজা’ স্পেন। তরুণ তুর্কিদের নিয়ে অসাধারণ দল গঠন করে চ্যাম্পিয়ন হলো লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
দুরন্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে কার্যত একতরফাভাবেই হারিয়ে দিয়েছে স্পেন। তবে স্পেনের এই জয় যতটা না ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ দিয়েছে, তার চেয়েও বেশি অনেক সমর্থক উচ্ছ্বসিত হয়েছেন আর্জেন্টিনার পরাজয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা থেকে শুরু করে রাজপথে সমর্থকদের উল্লাস—সবই চোখে পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? কেন একটি বড় অংশের ক্রীড়ামোদী আর্জেন্টিনার পরাজয়ে এভাবে খুশিতে মেতে উঠলেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক মূল কারণগুলো

আমেরিকা জুড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তাণ্ডব(Argentina)
ফাইনালে নামার ঠিক আগের দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাস্তায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অশালীন দাপট চোখে পড়ে। নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইম্স স্কোয়ার কার্যত দখল করে নেন তাঁরা। একই সঙ্গে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা, যা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে।

স্টেডিয়াম জুড়ে আপত্তিকর আচরণ(Argentina)
ম্যাচ চলাকালীন বিভিন্ন স্টেডিয়ামে সমর্থকদের লজ্জাজনক আচরণ দেখা গেছে। বাজে অঙ্গভঙ্গি এবং মধ্যমা আঙুল দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বারবার। ম্যাচের পর যেখানে জাপানের সমর্থকেরা গ্যালারি পরিষ্কার করে বিশ্ববাসীর মন জয় করেছিলেন, ঠিক তার উল্টো ছবি ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ক্ষেত্রে। খেলার আগেই বিভিন্ন গ্যালারিতে চরম নোংরা পরিবেশের ছবি সামনে আসে। মূলত এসব কারণেই অধিকাংশ সাধারণ ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়া মেনে নিতে পেরেছেন, এমনকি খুশিও হয়েছেন।

ফকল্যান্ডস যুদ্ধের বিতর্কিত ব্যানার(Argentina)
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচে জয়ের পর জুড বেলিংহাম ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ভ্যালেন্টিন বার্কোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বারবার খবরে উঠে আসে। তবে এর চেয়েও বড় বিতর্ক তৈরি হয়, যখন ফকল্যান্ডস যুদ্ধের বিতর্কিত ব্যানার নিয়ে লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নাচতে দেখা যায়। এই বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মুখ খুললেও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।এমনকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে উৎসব করতে দেখা যায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে চরম মানসিক দৈন্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়াবিশ্লেষকরা।
রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ(Argentina)
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতিটি ম্যাচ ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মেসির ফাউল এড়িয়ে যাওয়া কিংবা মিশরের বিরুদ্ধে গোল বাতিলের ঘটনা—প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই তুমুল বিতর্ক হয়েছে। ফাইনালেও স্পেনের স্কোর ৩-০ হতে পারত, কিন্তু বিতর্কিত কিছু কারণ দেখিয়ে রেফারি দুটি গোল বাতিল করেন। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি প্রকাশ্যে লিওনেল মেসি ফাউল করলেও রেফারি তা উপেক্ষা করেছেন।

পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল যেন—”আমার ব্যাট, আমি আউট হব না!” খেলায় কারচুপির এই অভিযোগ যেন ৪ মে-র অন্য একটি রাজনৈতিক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। নীল-সাদা রঙের সংযোগেই হয়তো দুটি ঘটনার মধ্যে এত মিল! আর্জেন্টিনার পরাজয় এবং স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হলেও বিতর্ক কিন্তু পিছু ছাড়ছে না। আগামী দিনে এই বিতর্কের হাওয়া কোনো নতুন মোড় নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

