Humayun Kabir
Bengal Liberty, ৬ জুন ২০২৬ :সব জল্পনার অবসান।(Humayun Kabir) দীর্ঘদিনের টালবাহানা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্রের জয়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর হলেন শতাব্দীপ্রাচীন ফুটবল ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিংয়ের নতুন সভাপতি। শুক্রবার ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা আমিরুদ্দিন ববি পদত্যাগ করার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় হুমায়ুনকে। নতুন সভাপতিকে শনিবার দুপুর ২টোয় ক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
হুমায়ুন যুগের সূচনা(Humayun Kabir)
গত কয়েক দিন ধরেই মহামেডানের সদস্য ও সমর্থকদের একাংশ আমিরুদ্দিন ববির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই চাপের মুখে পড়েই তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। তবে ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি পদে পরিবর্তন হলেও বাকি কমিটিগুলো আপাতত অপরিবর্তিতই থাকছে। আগামী এক মাস নতুন সভাপতির নেতৃত্বে ক্লাবের কার্যক্রম এবং আর্থিক পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, তা দেখার পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাক্তন সভাপতি সুলতান আহমেদের হৃদরোগে মৃত্যুর পর দীর্ঘ বছর ধরে সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন আমিরুদ্দিন ববি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, তাঁর অধীনে থাকা কোনো দায়িত্বই তিনি সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি। স্পনসর সমস্যা থেকে শুরু করে তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত হয়েছে ক্লাব। যেখানে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ভালো বিদেশি ফুটবলার নিয়ে শক্তিশালী দল গড়তে পেরেছে, সেখানে বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই আইএসএলে (ISL) চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে কালো-সাদা ব্রিগেড। তাই এবার হুমায়ুন কবীর সভাপতি হওয়ার পর ক্লাব ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।

এরই মধ্যে ক্লাব সূত্রে খবর, প্রথমে সভাপতি পদের জন্য আইএসএফের ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁকে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু তাঁর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় শেষমেশ হুমায়ুন কবীরের ওপরেই এই গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ক্লাবের দেওয়াল থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সরিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
হুমায়ুন কবীরের বার্তা(Humayun Kabir)
সভাপতি হওয়ার পর ইতিবাচক বার্তা দিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “এত বড় একটি ঐতিহাসিক ও শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আপ্লুত ও আনন্দিত। মহামেডানের পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করব। এর পাশাপাশি আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্লাবের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে সাহায্যের আবেদন জানাব। তিনি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর বিষয়। তবে আমি আমার ১০০ শতাংশ দিয়ে চেষ্টা করব।”
বর্তমানে মহামেডানের ঘাড়ে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী মরশুমের জন্য দল গঠন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাভাবে সেই প্রক্রিয়া কার্যত থমকে রয়েছে। কয়েক মাস আগে নওশাদ সিদ্দিকী দাবি করেছিলেন, কলকাতার অন্যান্য বড় ক্লাবের মতো মহামেডান পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পায়নি। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরও ক্লাবের এই আর্থিক অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বাংলার জনগণ ও কলকাতার খেলার ময়দান—দুই পক্ষই এখন নিজেদের পছন্দমতো নেতা বেছে নিয়েছে। কিন্তু এরপর কী হবে? ফের কি ঘুরে দাঁড়াবে মহামেডান? খেলার দুনিয়ায় এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।


রাজনৈতিক সমীকরণ বদল(Humayun Kabir)
২০০৯ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান আহমেদকে মহামেডান ফুটবল ক্লাবের সভাপতি পদে বসিয়ে রাজ্যের মুসলিম ভোট নিজের দিকে টানার কৌশল নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুলতানের মৃত্যুর পর ওই আসনে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ আমিরুদ্দিন ববিকে বসিয়ে সেই ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের ৪ মে তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হতেই কলকাতার ময়দানের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। প্রায় সব সামাজিক ও প্রশাসনিক পদ থেকে সরানো হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের। সেই তালিকাতেই যুক্ত হলো আমিরুদ্দিনের পদত্যাগ।
মহামেডান ক্লাবের কর্তারাও চাননি কোনো তৃণমূল নেতা তাঁদের ক্লাবের শীর্ষপদে থাকুন। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর বর্তমানে মুসলিম সমাজের একাংশের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। তাই কঠিন সময়ে ক্লাব বাঁচানোর লড়াইয়ে তাঁর ওপরেই আস্থা রাখলেন ক্লাব কর্তারা।

