Durgapur Gang Rape
Bengal Liberty:
পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে নাবালিকা নির্যাতনের ভয়ঙ্কর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Durgapur Gang Rape)। মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় কিশোরীকে। গাড়ির ভেতর মাদক সেবন করিয়ে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মূল চক্রান্তকারী এক মহিলা ও হোটেল ম্যানেজারসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও মূল অভিযুক্ত পলাতক।

বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অচৈতন্য করার অভিযোগ
পরিবার সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার। সিমরান তামাং নামে এক তরুণী প্রথমে ওই ১৪ বছরের নাবালিকাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের করার পর নাবালিকাটিকে একটি চার চাকার গাড়িতে তোলা হয়। জোর করে অ্যালকোহল বা মদ খাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নাবালিকাটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

হোটেলের বন্ধ ঘরে গণধর্ষণ
হোটেলের ঘরে রাজ মল্লিক, শেখ আজহারুদ্দিন এবং সেখানে উপস্থিত আরও কয়েকজন মিলে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে। এই নৃশংস অত্যাচারের পর অভিযুক্তরা ওই নাবালিকাকে বাইপাসের ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শনিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ এক টোটো চালক ওই নাবালিকাকে অত্যন্ত সংকটজনক ও বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তার বাড়ির সামনে পৌঁছে দেন। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে বিধাননগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই নাবালিকা।
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, ” শনিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ মেয়েকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং রাতে চরম মাদকাসক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি যাতে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়। আমি অপরাধীদের ফাঁসি চাই।”
অপরাধীদের গ্রেফতার
খবর পেয়েই আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল এবং ওই হোটেলটি পরিদর্শন করে পরীক্ষার জন্য বেশ কিছু নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করে। আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে এফআইআর-এ নাম থাকা দুই মূল অভিযুক্ত, নাবালিকাকে নিয়ে আসা সেই তরুণী এবং হোটেলের ম্যানেজার রয়েছে। আরও একজন অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক, তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
দোষীদের এনকাউন্টারের দাবি বিজেপি নেতার
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করেন বিজেপি নেতা পারিজাত গাঙ্গুলী। তিনি রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পারিজাত বলেন, “শেখ আজহারুদ্দিন, রাজ মল্লিক এবং এই ঘটনার মূল চক্রী সিমরান তামাং যা করেছে তা সহ্যের অতীত। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই ধরনের ধর্ষকদের যেন জেলে বসিয়ে সরকারি খরচে খাওয়ানো না হয়। পুলিশ যদি এদের সকালে গ্রেফতার করে, তবে বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে এদের এনকাউন্টার করে। যতক্ষণ না এই ভয় তৈরি হবে, ততক্ষণ অপরাধীরা আইনকে ভয় পাবে না।”
তবে মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান আইন ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের। তাদের ভরসা, পুলিশ সঠিক বিচার করবে।

