Kalyan Banerjee
Bengal Liberty, ৯ জুন :
অনেক আগেই বিধানসভা হাতছাড়া হয়েছিল মমতার। তারপর লোকসভাতেও ধাক্কা খেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (Kalyan Banerjee)। পরিষদীয় এবং সংসদীয় উভয় দলই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রায় ২০ জন সাংসদ NDAতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। এখন মমতার হাতে রয়েছেন ৮ জন। বিদ্রোহী সাংসদদের আগেই বিশ্বাসঘাতক অ্যাখ্যায়িত করেছে তৃণমূল। এবার বিক্ষুব্ধ নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যাঁরা দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন, তাঁদের আসল নেতা নরেন্দ্র মোদি। তাঁরা মনে-প্রাণে বিজেপিতেই শামিল হয়েছেন (Kalyan Banerjee)।

প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ (Kalyan Banerjee)
দলের অন্দরে থেকেই বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “এতই যদি সাহস থাকে, তাহলে নিজের নিজের এলাকায় যান। বুথ স্তরের সাধারণ কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। দেখুন, তাঁদের চোখে চোখ রেখে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা আছে কি না।” তিনি আরও বলেন, “দল ছাড়তে চাইলে নিশ্চিন্তে চলে যান। বরং আমরাই বলছি, যদি তৃণমূলের আদর্শে আস্থা না থাকে, তাহলে আর দলের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করবেন না।” বিক্ষুব্ধদের খোঁচা দিয়ে কল্যাণ বলেন, “আসলে ওঁরা সবাই ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকতে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছেন বলে আজও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকতে চাইছেন।”
এরপর আরও কড়া সুরে কল্যাণের বার্তা, “দল ত্যাগ করার পর নিজেদের নামের পাশে ‘তৃণমূল নেতা’ বা ‘তৃণমূল সাংসদ’ পরিচয় ব্যবহার করা অবিলম্বে বন্ধ করুন। দলের পরিচয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ।” কল্যাণের খোঁচা থেকে বা যায়নি ফিল্ম স্টাররাও। তারকা সাংসদদের উদ্দেশ্যে কল্যাণ বলেন, “ফিল্মস্টাররা ভিনদেশি তারা, ওদের ধারণা যেহেতু পাবলিক আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, তাই পার্লামেন্টেও আমাদের দেখে সব দৌড়ে আসবে। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় জিততে পারত না।”

কাকলিকে নিশানা কল্যাণের (Kalyan Banerjee)
বারাসতের সাংসদ কাকলি বিগত বেশ কিছু সময় ধরে বেসুরো ছিলেন। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে একাধিকবার সমাজ মধ্যমে মুখ খুলেছে তিনি। এদিন কল্যাণ তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন।কল্যাণ বলেছেন, “২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিন্ডিকেট শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলে জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।”
সব শেষে সব হারিয়েও কিছু না হারানোর ডায়লগ দেন কল্যাণ। ক্ষোভ এবং মনোবলকে হাতিয়ার করে তিনি বলেন, ” আজ আপনাদের কাছে ক্ষমতা থাকতে পারে, অঢেল টাকা থাকতে পারে, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়, দামি গাড়ি, কড়া নিরাপত্তা আর বিপুল সম্পত্তি থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোনও এজেন্সির ভয় নেই, আমাদের সঙ্গে রয়েছেন স্বয়ং ‘মা, মাটি এবং মানুষ’।”


