Article 41 Bangladesh Constitution
Bengal Liberty, প্রাইমা হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবিকা, সংগঠক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের কর্মী:
সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু (Article 41 Bangladesh Constitution) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জেলখানার ভেতরে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আর কতদিন রাষ্ট্রযন্ত্র মিথ্যা মামলা দিয়ে এভাবে আটকে রাখবে? রাষ্ট্রের কাছে আজ এটাই জানতে চায় দেশের জনগণ।

কারাবাস বনাম বিচারের দীর্ঘসূত্রতা: প্রতিহিংসার বেড়াজাল? (Article 41 Bangladesh Constitution)
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না। সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ স্পষ্ট উল্লেখ করে— গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে এবং তাঁর আইনি সহায়তার অধিকার রয়েছে।

অথচ বর্তমানে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী এবং আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও নতুন আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এই ‘মামলার বেড়াজাল’ নিয়ে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জনগণের প্রশ্ন একটাই— অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হবে?
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা: ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী (Article 41 Bangladesh Constitution)
সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধায় এক ব্যক্তি নিজ জমিতে, নিজস্ব অর্থায়নে রাম মন্দির নির্মাণ করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী মানববন্ধনের মাধ্যমে তাতে বাধা দেয়। সেখান থেকে স্লোগান ওঠে— “এখানে মন্দির করা যাবে না”।
অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অত্যন্ত স্পষ্ট:
“আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে।”
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূলমন্ত্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা। প্রাইমা হোসেনের ভাষায়— “এই বাংলাদেশ তো সেই বাংলাদেশ নয়। ১৯৭১ সালে আমরা ধর্মের নামে বিভাজনের বিরুদ্ধে লড়েছি। আজ নিজ জমিতে উপাসনালয় বানাতে বাধা এলে প্রশ্ন ওঠে— আমরা কি তবে আবার পেছনের দিকে হাঁটছি?”

আইনের শাসন ও সবার জন্য সমান অধিকার (Article 41 Bangladesh Constitution)
আইনের শাসন মানে কারো জন্য নরম আর কারো জন্য কঠোর হওয়া নয়। অপরাধী হিন্দু হোক, মুসলিম হোক, আওয়ামী লীগ হোক বা বিএনপি— আইন সবার জন্য সমান হওয়া বাঞ্ছনীয়। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী— “আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”
যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে হয়রানি করা হয়, তবে তা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আঘাত। আবার যদি কোনো উগ্র গোষ্ঠী সংবিধান অমান্য করে সংখ্যালঘুর ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এবং সেখানে রাষ্ট্র নীরব ভূমিকা পালন করে, তবে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

জনগণের প্রত্যাশা: আদালত বনাম রাজপথের বিচার (Article 41 Bangladesh Constitution)
বাংলাদেশ একক কোনো গোষ্ঠী বা দলের নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মের মানুষের সমঅধিকার ও নিরাপত্তা। জেল-জুলুম দিয়ে যেমন ভিন্নমত দমন করা যায় না, তেমনি রাজপথের উসকানি বা মানববন্ধন দিয়ে দেশের সংবিধান বদলে ফেলা যায় না।
আজ দেশের সচেতন জনগণ জানতে চায়— রাষ্ট্র কি সংবিধানের পক্ষে শক্তভাবে দাঁড়াবে, নাকি উগ্রতা ও জনতার উসকানির কাছে মাথা নত করবে? বিচার কি দেশের প্রচলিত আদালতে হবে, নাকি রাজপথের মব জাস্টিসের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে?
আরও পড়ুন:
বিএনপি সরকারের বাজেটে গরিবের কোন লাভ নেই, জিনিসপত্রের দাম কমবে না বরং বাড়বে


