Arambagh
Bengal Liberty: রূপ বদলে, চেনা ছক এড়িয়েও শেষ রক্ষা হলো না। আরামবাগ পুরসভার বহু চর্চিত ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে প্রায় ৭ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী (Swapan Nandy)। ঘটনাচক্রে, নিজেকে আড়াল করতে নিজের চেনা রূপ বদলে ফেলেছিলেন তিনি; কামিয়ে ফেলেছিলেন সাধের গোঁফ (Arambagh Municipality Ex Chairman)। কিন্তু পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া যায়নি (Arambagh)। সুদূর কেরল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
যেভাবে চলল অপারেশন (Arambagh)
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন স্বপন নন্দী। তাঁর খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল আরামবাগ থানার পুলিশ। গঠন করা হয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ১২ জুন কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলার কাঞ্জিরামপুরম থানা এলাকায় হানা দেয় বাংলার পুলিশ বাহিনী। সেখান থেকেই পাকড়াও করা হয় ভোলবদল করে লুকিয়ে থাকা এই তৃণমূল নেতাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে আগামীকালই তাঁকে হুগলি আদালতে তোলা হবে।

গোঁফ কামিয়ে ভোলবদল ও কেরলে আত্মগোপন
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন স্বপন নন্দী। তাঁর খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল আরামবাগ থানার পুলিশ। এই উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ১২ জুন কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলার কাঞ্জিরামপুরম থানা এলাকায় হানা দেয় এবং সেখান থেকেই ভোলবদল করে লুকিয়ে থাকা এই তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে আগামীকালই তাঁকে হুগলি আদালতে তোলা হবে।
কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার ভুয়ো বিল
স্বপন নন্দীর আমলেই আরামবাগ পুরসভায় এই ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পের অধীনে বড়সড় জালিয়াতি ঘটেছিল। অভিযোগ রয়েছে, আরামবাগের বিভিন্ন স্কুলের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সোলার প্যানেল বসানোর কোনও কাজই করা হয়নি, বরং সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে ভুয়ো বা ফলস বিল বানিয়ে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বর্তমান চেয়ারম্যানের অভিযোগ ও মোট চারজন গ্রেফতার
বর্তমান আরামবাগ পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান সমীর ভাণ্ডারী এই বিপুল দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। স্বপন নন্দীকে নিয়ে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এর আগে এই একই মামলায় পুরসভার সরকারি কর্মী কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায়, ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু এবং ঠিকাদার স্বর্ভানু ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রাক্তন পুরপ্রধানের এই গ্রেফতারির পর আরামবাগের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারির শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাক্তন পুরপ্রধানের এই গ্রেফতারির পর আরামবাগের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার এই কেলেঙ্কারির শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: মমতাকে আইনি নোটিস কাকলি-পুত্রের


