Kunal Ghosh
Bengal Liberty:
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা এনসিপিআই (NCPI) দলে যোগ দেওয়ায় শাসক শিবিরের অন্দরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো (Kunal Ghosh)। দলের এই তুমুল ডামাডোলের আবহে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন যাদবের বাসভবনে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে। একদিকে দলবদল ও সুদীপের গতিবিধি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তাঁর নানা আবদার ও ‘নির্লজ্জতা’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন কুণাল ঘোষ।
কিছুদিন আগেই সমাজমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বিচিত্র পরচুলো’ বলে খোঁচা দিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন কুণাল। এর পরপরই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি নতুন গাড়ির আবদার জানান—যাকে ‘অপূর্ব দাবি’ ও ‘নির্লজ্জতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ।

‘সুবিধা তৃণমূলের, আনুগত্য অন্যত্র Kunal Ghosh
তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ তুলে কুণাল বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর কলকাতায় দলের সাংগঠনিক ভিত সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, নিজের ফেসবুক পোস্টে নাম না করেই সুদীপ-জায়া নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছেন কুণাল। এর আগেও সুদীপ ও নয়নার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ‘টু ইন ওয়ান’ এবং ‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’-এর মতো মন্তব্য করে বিদ্রুপ করেছিলেন তিনি। আজ আবারও পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী যিনি নিজে এবং যাঁর স্ত্রী কোটিপতি, তাঁরা কীভাবে নতুন গাড়ি কেনার জন্য দলের কাছে টাকা চাইতে পারেন? কুণালের স্পষ্ট বক্তব্য—সুবিধা ভোগ করবেন তৃণমূল থেকে, অথচ আনুগত্য দেখাবেন অন্য দলের প্রতি!

তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, সুদীপ একজন সুবিধাবাদী এবং নিজের স্বার্থেই দলবদল করেন। কুণালের এই একের পর এক মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে, সুদীপের এনসিপিআই-তে যোগদান, গাড়ির আবদার এবং সমাজমাধ্যমের চ্যাটের সত্যতা—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক তীব্র জটিল আবর্তের সৃষ্টি হয়েছে।


