Kiranmoy Nanda
Bengal Liberty, ১৫ জুন :
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগে সুর মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল সমাজবাদী পার্টি (Kiranmoy Nanda)। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে অখিলেশ যাদবও প্রকাশ্যে তৃণমূল নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কলকাতায় এসেও তিনি মমতার বাড়ি গিয়ে দেখা করেছিলেন। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই পুরো ভোল বদলে গেল। সোমবার কলকাতায় এসে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি তথা অখিলেশের ‘দূত’ কিরণময় নন্দ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করেন। এমনকি ইন্ডিয়া জোটকে সোনার পাথরবাটি বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, জনতা তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই হার মেনে নেওয়াই উচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য শুধু তৃণমূলের বিরুদ্ধেই নয়, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিল। কিরণময় নন্দের এই আক্রমণ থেকে স্পষ্ট, মমতা দির থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন অখিলেশ যাদব (Kiranmoy Nanda)।

মমতার হার নিয়ে কটাক্ষ কিরণময়ের (Kiranmoy Nanda)
রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিধানসভার স্পিকারের ঘরে বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই কলকাতায় এসেছিলেন সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী কিরণময় নন্দ। সেখানেই তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় সরব হন তিনি। কিরণময়ের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। আগেও তিনি হেরেছেন, তখনও বলেছিলেন হারেননি। এবারও তাই। ভবানীপুরের জনতাই তাঁকে আর চায়নি। আমার দলের নেতা এসে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি। কিন্তু উনি তো হেরেছেন। অখিলেশ যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তব আলাদা। বাংলায় নির্বাচন সঠিক নির্বাচন হয়েছে।” পাশাপশি তিনি আরও বলেন, “সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, সিপিএমের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে গেছিল তৃণমূল।”

শুভেন্দু সরকারের প্রশংসায় সমাজবাদী নেতা (Kiranmoy Nanda)
শুধু তৃণমূলের সমালোচনাই নয়, এদিন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ভূয়সী প্রশংসাও শোনা যায় কিরণময় নন্দের গলায়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অত্যাচারের পরিবেশ থেকে বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। নতুন সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন তিনি। একইসঙ্গে জানান, পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটার হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভবিষ্যতে দেখা করারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। এমনকি ২০ জন সাংসদের এনডিএ- এর সাথে জোট করাকে সমর্থন করেন তিনি। তাঁর কথায়, “পার্লামেন্টে যা হল সেটা ঠিকই আছে। এবার যদি ওই নতুন দল এনডিএকে সাপোর্ট দেয় দিতেই পারে।”

ইন্ডিয়া জোটে কি বাড়ছে দূরত্ব? (Kiranmoy Nanda)
রাজ্যে ভরাডুবির পর জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফল ঘোষণার পর রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সম্প্রতি দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকেও যোগ দেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সময়ই কিরণময় নন্দের প্রকাশ্য সমালোচনা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। তাঁর মন্তব্য কি শুধুই ব্যক্তিগত মত, নাকি এর মধ্যেই সমাজবাদী পার্টির পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।



