Samajwadi Party
Bengal Liberty:
সুখের পায়রা কিরণময় নন্দ কি এবার বিজেপির পথে? সাম্প্রতিককালে বাংলার রাজনীতির অন্দরে গিরগিটির প্রকৃত রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আজ বিজেপির পাল্লা ভারী দেখে পদ্ম শিবিরের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছেন বিরোধী নেতারা। সেই তালিকায় নাম লেখালেন কিরণময় নন্দ (Samajwadi Party)।

বাম থেকে তৃণ হয়ে রাম
বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মন্ত্রী ছিলেন কিরণময়বাবু। ২০১১-র পরিবর্তনের পর তাঁর নেতৃত্বে সমাজবাদী পার্টি ফ্রন্ট থেকে সমর্থন সরিয়ে নেয়। তখন-ই বোঝা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সমাজবাদী পার্টি ক্রমে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছে। এরই মাঝে কেন্দ্রীয় বিজেপি এবং এনডিএ-র বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে কংগ্রেস হাইকমান্ড। পাশে সেই সময় মমতার হাত ধরেন অখিলেশ যাদব। সেই সূত্রে মমতার বাড়িতে কিরণময় নন্দর যাতায়াত লেগেই থাকত। ইন্ডি ব্লকের দৌলতে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক আরও গভীর হতে শুরু করে।
কিরণময় নন্দর কাজ ছিল উত্তরপ্রদেশের নেতাদের সঙ্গে রাজ্য তৃণমলের লিয়াজোঁ করিয়ে দেওয়া। সেই মতো লাগাতার কাজ করে গিয়েছেন তিনি।

সুযোগসন্ধানী কিরণ বিজেপি ঘেঁষা
বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মমতার বাড়িতে অখিলেশ যাদব পা-রাখলেও কিরণময় গরহাজির ছিলেন। তিনি ক্রমে মমতার থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে শুরু করলেন। আজ আচমকাই প্রাক্তন বিধায়কদের সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় আসেন। সেখানে ইন্ডি জোট নিয়ে সাফ বলেন, ‘ইন্ডিয়া জোট সোনার পাথরবাটি। আমার দলের নেতা অখিলেশ এসে বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি। কিন্তু উনি তো বাস্তবে হেরেছেন। আমি আখিলেশকে বলেছি যে, এবার বাংলার নির্বাচন সঠিক হয়েছে। অখিলেশ যা বলেছেন, সেটা পলিটিক্যাল কম্পালশন। কিন্তু, রাজনৈতিক বাস্তবতা আলাদা। গত ১৫ বছরে অনেক দুর্নীতি, অত্যাচার হয়েছে। ব্যাড গভর্ন্যান্স ছিল তৃণমূলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। আগেও হেরেছেন তখনও বলেছিলেন হারেননি। এবারও তাই। ভবানীপুরের জনতাই তাকে চাননি।’
অখিলেশ কি মানবেন কিরণকে?
সমাজবাদী পার্টির রাজ্য নেতৃত্বও যে এবার ইন্ডি জোটে মমতার যোগকে সমর্থন করছেন না, সেটা কিরণময় নিন্দর কথায় স্পষ্ট। তাহলে কি এবার রাজ্যে অখিলেশ যাদবের দলের সমাপ্তি ঘণ্টা বেজে গেল? অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে কিরণময় নন্দকে নিয়ে সমালোচনার সুর। আজ কেন কিরণ দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলছেন? এতদিন কি জল মাপছিলেন?


