Us Israel
Bengal Liberty, ১৫ জুন ২০২৬ : যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ফের নয়া মোড়। বিগত চার মাস ধরে(Us Israel) মধ্যপ্রাচ্যে চলছে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ। গোলা-বারুদ আর ক্ষেপণাস্ত্রের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে পুরো আকাশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের এখনো কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি না হলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী থেকে শুরু করে পরমাণু অস্ত্র—সব বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
এই খবর আসার পর বিশ্ববাসী কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়ে এই চুক্তির বিরুদ্ধে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ইজরায়েল। এই শান্তি চুক্তির কোনো বাধ্যবাধকতা তাদের ওপর নেই বলে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছে তেল আবিব, যার ফলে বহুল প্রতীক্ষিত এই শান্তি চুক্তি নিয়ে ফের ব্যাপক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন:- CM Suvendu Adhikari : কলকাতার হারানো গৌরব ফেরাতে মাস্টারপ্ল্যান শুভেন্দুর

সমঝোতা নিয়ে ইজরায়েলের দ্বিমত(Us Israel)
আমেরিকা-ইরান সমঝোতা নিয়ে(Us Israel) এই প্রথম মুখ খুলল ইজরায়েল। তেল আবিবের স্পষ্ট বার্তা – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চুক্তিকে মান্যতা দেওয়া ইজরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইজরায়েল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে ইরানের সঙ্গে এই শান্তি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার এক দিন যেতে না যেতেই ইজরায়েল নিজেদের ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট করায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ইজরায়েলের স্পষ্ট বার্তা(Us Israel)
ইজরায়েল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। ইজরায়েল আমেরিকার অংশ নয়; আমরা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র।”
প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহ বা ইরানের মদতপুষ্ট অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর আক্রমণ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ইজরায়েলের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত। তারা আরও যোগ করেন, “আমরা আমেরিকার পাশে সব সময় আছি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু ইজরায়েল কোনো দুর্বল রাষ্ট্র নয়, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করতে পারি।”
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠক সম্ভাবনা(Us Israel)
আমেরিকা ও ইরানের এই চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তরফ থেকে এখনো সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে—খুব শীঘ্রই ট্রাম্পের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসতে পারেন নেতানিয়াহু। এই মুহূর্তে ট্রাম্প জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ইজরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প জি-৭ বৈঠক থেকে ফেরার পরপরই তাঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চাইছেন নেতানিয়াহু।

তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, আমেরিকা ও ইরান শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রান্তে ইজরায়েল তাদের সামরিক অভিযান জারি রাখতে পারে। এই অনমনীয় অবস্থানের প্রভাব আন্তর্জাতিক মহলসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, শান্তি প্রক্রিয়ার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে ফের একবার যুদ্ধের আতঙ্ক জিইয়ে রাখল ইজরায়েল।


